অন্তর্মুখী - © অঞ্জন ঘোষ রায়।
একদমই দুশ্চিন্তাহীন একটা মানুষ আমি, নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যাই রোজ, ছোট চারাগাছ দের দেখি সকালে ঘুম থেকে উঠে, ন্যাড়া ছাতিম গাছের ডাল গুলিতে বসে থাকে বিভিন্ন পাখিদের দেখি, পুকুরের মাছ দের হাপুস হুপুস করে শ্বাস নেওয়া দেখি, ডুবে যাওয়া দেখি। ট্রেন এ উঠে মানুষের মুখ দেখি, জানলায় আলো দেখি, সানগ্লাস এ চোখ ঢাকি, কান্না হোক কিংবা রোদ। খুব আলোতে আমার অস্বস্তি হয়, অন্ধকারে আমার শান্তি লাগে, অনেক মানুষ এ আমার দম বন্ধ লাগে, একজন প্রিয় মানুষ এ আমার সুখের মিছিল। কেমন যেন একটা, আপাদ মস্তক ইতি বাচক নাকি নেতি বাচক , বুঝেই ওঠা যায়না। তবে ভিড় এর বাইরের কথা বলতে বলতে উপলব্ধি করা যায় , এখানে এক স্বকীয় আলো তো আছেই, তবুও একটা অন্তর্মুখী মানুষ শৈশব যুবক তো ঘাড় গুঁজেই আছে, চারদিকের এত আলো থেকে পালাচ্ছে আর পালাচ্ছে, যদিও যাহাই আলো তাহাই অন্ধকার,সেকথা সকলেই জানে। কাকে বলি এসব কথা?কাকে বোঝাই আমার দ্বারা কিস্যুই যে হবার নয়, কবিতা লিখেও কবিতা বেচতে জানিনা আমি, গান ভালবেসেও গান গাইতে জানিনা আমি।এই জন্ম আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে আশীর্বাদের মতন করে, কিন্তু পাত্র দ্যায়নি, জাতে ঢেলে আমি খেতে পারি বা খাওয়াতে পারি। আমার এগিয়ে যাওয়া ভালবেসে যেটুকু সম্ভব করে যাওয়া, করেও যাই, কিন্তু নিজের ভিতরে এত ফাঁকা ফাঁপা ফোঁকর আছে, তাদের আমি পূরণ করতে পারিনা। আমি এই ঘাটের ও না, ওই ঘাটের ও না, আমি ওই ছাতিম গাছের উপর এদিক ওদিক তাকাতে থাকা একলা চিল, যার আকাশে দাপট দেখানোর ইচ্ছা থাকলেও, ডানা ছোট থাকার কারনে মেনে নিতে হয়, এভাবেই জীবন কে মিষ্টি করে ভালবেসে নিতে হয়, তবুও নিজের না পারা গুলো নিয়ে লজ্জা হয়, এক ঘরে থাকি , জীবন কে ভালো ও বাসি।
মনে হয় , এই জীবন অতি দ্রুত কেটে যাক এবার,আমার তো আর কিছু ই করার নেই,যা কিছু নিজের আছে তোমার কাছে বরং গচ্ছিত রেখে যাই।।