শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

চ্যাটবক্স

 

চ্যাট বক্স 

অঞ্জন ঘোষ রায় 

চ্যাটবক্স এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম 
যতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম ট্রেইন এর ভিতর স্থির ভাবে,
 সমস্ত ফিরতি মানুষ দের মাঝখানে 
একটা বেবোধ গ্রহের মতন । 
চ্যাটবক্স জ্বলছে , সেখানে শব্দ নেই, 
তারিখ ছাড়া ক্যালেন্ডার এর দিকে 
তাকিয়ে আছি যেন, কোনোভাবেই খুঁজে পাচ্ছিনা 
পূর্ণিমা অমাবস্যা ছুটির দিন গুলো কবে, 
শুধু তাকিয়ে আছি। স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে,
গাছ গুলো অন্ধকারে দৌড়ে যাচ্ছে,
আমি ঠাঁয় দাড়িয়ে আছি ,
রোদ নেই,নোনাজল আছে, দাড়িয়ে আছি চোখ গুঁজে।
সাবধানে যেতে যেতে অসাবধানে পা পিছলে যায় না
কেনো? চোখ ধাঁধিয়ে গেলে দৃষ্টি মরে যায় না কেন?
আমি তাকিয়ে আছি বিবশ হয়ে, বেবোধ গ্রহের মতন,
তোমাদের কি হাসির খোরাক হয়ে উঠছি আমি??
কবিতা লিখছি বলে!

© অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৫ ,২৫ এপ্রিল

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

অথচ

 

ছবি - পিন্টারেস্ট

 "অথচ"--- (রচনাকাল ২০১৮)


তুমি যত বার মেটাফর মিশিয়ে দিচ্ছ

আমার ধৈর্য হারিয়ে যাচ্ছে,

আরো শীঘ্রই আমি অন্ধকারে ঢুকে যাচ্ছি।

এখানে শ্বেত কাঞ্চন এর কোনো গন্ধ নেই,

আমার জীবন এর মতই,কিন্তু উজ্জ্বল।

কত চমকপ্রদ উপস্থাপন,তবু মন খারাপ হয়,

হঠাৎ মৃত্যু তো জন্ম শব্দের সমানুপাতিক!

একটা মৃত্যু নতুন জন্মের খোঁজ দিয়ে চলে যায়।

যে পিরামিডের ভিতর দিয়ে একটা সরুপথ হেঁটে যায়,তুমিও থাকো হতে পারে ছায়া সেজে,

আমি বুঝি ছায়া নয়।

তাকে তো আমি ভুলিনি,

কাঠগোলাপের রং তার সারাদেহে ত্বকে,যে করুণ সংলাপে গোটা মনন ঢেকে গেছিলো কোনো একদিন, 

তা কখনোই ভুলে যাবার জন্যে নয়।

কুড়ি ঝরে যায় নি,শুধু তুমি আমাকে

আড়ালে আড়ালে আড়ালে কবিতা পাঠ শিখিয়েছ।

আমি এখন অন্ধকার গলিতে মশাল নিভিয়ে হেঁটে বেড়াই,

সারা টা রাত গলিপথ শেষে মুক্তির অপেক্ষায়

তুমি দাড়িয়ে থেকো,

তখন যেনো এই ছায়ার অভিনয়

 বেঁচে না থাকে, মাথায় রেখো ।।

Anjan Ghosh Roy

রাত , কালো ও আমি


ছবি - পিন্টারেস্ট

রাত , কালো,আর আমি" 

(রচনাকাল ২০১৮)


দিন হয় হয়তো!কি জানি,আমার ঘরে তো হয় না।

আমার সারা ঘরে সোঁদা অন্ধকার,হিম পড়ে সারারাত,

জোনাকি দের আত্মারা বৈঠক করে,

আমি অন্ধকারেই বই পড়ি ।

আঙুল ধরি ছায়াপথ এর,বিশ্রাম নিতে উদ্যত হই ,

অদ্ভুত বিশ্রাম,, যার সারমর্ম মানুষ খুঁজে বেড়ায় চিরকাল..

একটা ফিলামেন্ট কাটা বাল্ব ঝুলে থাকে আকাশ থেকে সারাক্ষণ,

আমি তো জন্ম থেকে একেই সূর্য ভাবি।

খুব শীত এলে আগুন পোহাই,,শীত শীত আগুন,নিভু নিভু তাপ।

গতপরশু এই অন্ধকার এর দেওয়াল বেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলাম কোথাও একটা,

বিস্তর নির্জন এলাকায় কে যেন ধুপ জ্বালিয়ে গেছে,

আর তার থেকে লিকলিকে রোগা ধোঁয়া এঁকেবেঁকে উঠছে ,

তার গতিপথ আমি ঠাহর করতে পারিনি,

শুধু শুকনো মুখ নিয়ে পায়ের ছাপ চিনে চিনে 

বাড়ি ফিরে এসেছি ,নিজের ঘরে,

কয়েদি সেজে আবার নিজেরই 

কাগুজে জেলখানায়।।


©অঞ্জন ঘোষ রায়। 

২০১৮

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

ওয়েদার - একটি গদ্য


ওয়েদার - একটি গদ্য

অঞ্জন ঘোষ রায়



যেভাবে তাকিয়ে আছি একভাবে আয়নার দিকে,ভেবেছিলাম ফেটে যাবে।

নিজের উপর রাগ হতে হতে কখন যেন করুণার পাত্র বানিয়ে ফেললাম নিজেকে,

নিজের থুতনি ধরে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়া করলাম,একটা কষানো থাপ্পড় মেরে চোখে চোখ রাখলাম।

আমি কাঁদছি,চোখ থেকে জল নেমে যাওয়াটা আগে বন্ধ করতে হবে,আমি আমাকেই বললাম ,ব্যক্তিগত দিকে তুমি কারো নও,কেউ তো তোমাকে ভালোবাসবে বলে বসে নেই,

এটা বুঝতে  হবে,  ভালোবাসো বলেই যে বারবার তা বলে যেতে হবে,বলে বোঝাতে হবে,কেন এই ছেলেমানুষী! আমি বুঝি তোমার সততা,তোমার উপলব্ধির স্তোত্র,তোমার ভিন্নধর্মী মিছিলের স্লোগান ,সব বুঝি,তবু  ,এমন তো কোনো দায়বদ্ধতা নেই ,নিজেকে শাসন করো ,আমি তাই জন্য তোমাকে দেওয়ালে ঠেসে ধরতে বাধ্য হলাম । তুমি জানো কার থেকে দূরে চলে যাচ্ছ ? যে তোমাকে একটা মুক্ত মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কবিতা পাঠ এর মতন করে পছন্দ করে,যে তোমার ভিতর এর মানুষ এর উচ্চতার সাথে তাল মেলাতে পারে,

যে এতকিছু জানে , তুমি তার থেকে সরে যাচ্ছ শুধু ভালোবাসো বলে? ভালোবাসো,, কিন্তু, যেভাবে কবিতাকে বেসেছ,,,টের পেয়েছে কেউ? কবিতা জানে, যে শুদ্ধতা আছে,যাকে আগলে রাখতে হয়,লালন করতে হয়,তোমায় আর নতুন করে এসব বোঝাতে ভালো লাগে না আর।

এসব ভাবতে ভাবতেই ওয়েদার ফরকাস্ট এর ম্যাসেজ ,নোটিফিকেশন শব্দ,স্ক্রিন জ্বলে ওঠা, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত , ঝড়ো হাওয়া।এই বৈশাখের সাদা রোদের তাপ থেকে নিষ্কৃতি পেতে কে না চায়! ঘেমে গেছি, 

আয়না এখনো ফেটে যায় নি,নিজেকে দেখতেও পাচ্ছি দিব্যি, ঘর টা গুমোট হয়ে রয়েছে,দুটো জানলা দরজা সমস্ত বন্ধ করে রেখে বসে আছি সারা দুপুর। হাত বাড়িয়ে চেয়ার থেকে প্যান্ট টা নিয়ে দু পা গলিয়ে উঠে দাড়িয়ে জানলা টা খুলে দেখলাম,

বুঝলাম আয়না না ভাঙার কারণ টা কি।

আমি অন্য মানুষ হয়ে গেছি,যেটা অনেকটা নদীর শব্দের মতন,অনেকটা হালকা,অনেকটা কাছে কাছে থাকা অদৃশ্য ছায়ার মতন। শান্ত চোখ,আঙুলে হাতে কন্ঠে ধীরতা। ঘর টা একটু আলো পেয়েছে,বন্ধ হাওয়া ঘুরপাক খেতে খেতে ভারী হয়ে উঠেছে,যাক,বাইরে যাক,উড়ুক। অনিচ্ছাকৃত কোনো খাঁচা বানানো তো আমার উদ্দেশ্য নয়,আমি ও তো আকাশের উদারতার কথা বলি,তোকে ছুঁয়ে উদারপন্থী দের মন্ত্র পাঠ করি। আমি ক্ষমা চেয়ে নিতে পারি ভীষন সহজেই,তুই তো জানিস সবই,ক্ষমা করে দে,হাত ধরে দেখ ঠান্ডা হয়ে আছি,যেভাবে তুই স্নান করে এলি এক্ষুনি। ঠাণ্ডা থাই এর কাছে আমাকে জমিয়ে রাখবি কখনো? একবার রাখিস। ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাঁড়াচ্ছি না যে সরে দাড়াবি,এ কোনো দাবি নয়,আবদার এর একশেষ। 

ছাদ এর একদম ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভিজিয়ে দেবার ইচ্ছা থাকলে ও হয়ে উঠলো না,কিন্তু বৃষ্টিতে তো ভিজতে হবেই। ঝড় মেঘ ,বিশাল চাপ চাপ মেঘের ভার,ওদিকে সশব্দ বাজ পড়তে থাকা,তুমুল বৃষ্টি,সে এক তুলকালাম কান্ড।তোকে হেঁটে যেতে হলো শাওয়ার এর নীচে। বাইরে মেঘ,ভিতরে বৃষ্টি, মাঝখানে কোনো দেওয়াল নেই,ধরে নেওয়া যাক কোনো ছাদ নেই, তুই একভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মন খারাপ কে ধুয়ে ফেলছিস,কিংবা চিন্তা।

অদৃশ্য ছায়ার মতো ছাদের এক কোণে বসে বসে আমি ভিজছি,তুই দেখতে পেলে ডাকতি আমি জানি,ভিজতে দিতি না, দোতলার বারান্দায় অথবা শাওয়ার এর নীচে দাড়িয়ে দুজন সিগারেট টেনে নিতেই পারতাম,কিন্তু নাহ,, তোর অন্যমনস্ক চোখের কাছে ঝড় বৃষ্টি কেও যেন কম রহস্যের লাগে, বরং সেটাই দেখে বাড়ি ফিরে আয়না ভেঙে ফেলি,আর নিজের মাথায় চাটি মেরে বলি, মানুষ হারানো পাপ যদি মানুষ মানুষই হয়। মেঘ টেগ কেটে গিয়ে হালকা রঙের রোদ উঠেছে বেশ.…..


© অঞ্জন ঘোষ রায়

১৭ই এপ্রিল,২০২৫


মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫

স্থায়ী ঋতু

 


স্থায়ী ঋতু 

- অঞ্জন ঘোষ রায় 

আমি ধরতব্যের মধ্যেই পড়ি না, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যেহেতু আমি অপরাধ করিনি কোন ও। কিকরে আমি তোর উচ্চতা কে অস্বীকার করি, এত এত মানুষ এর ভিড় এ যে মুখ উজ্জ্বল থাকে সব চেয়ে বেশি, সেটা তুই, অথচ দুর্ভাগ্য বশত আমি কখনোই তোর সামনে দাড়াই নি, যেদিন সামনে যাব, হয়তো এত কথা বলার অবস্থাই থাকবেনা, আমার বাস্তব কে স্বপ্ন ভাবতে ইচ্ছে হবে, আমার মনে হতে পারে এই সবচেয়ে প্রিয় মানবীর সাথে আমার কেনই বা এতকাল পর দেখা হল। তবে দুর্ভাগ্য আবারও , কফিনের পেরেক ঠুকে শব্দ করে আমাকে নিজেকে নিজে জানান দিতে হবে, এই মায়া মানবী হাওয়ায় মিশে যেতে পারে, যদি প্রকাশ করে ফেলি এই আকুতি, এ ভারি অন্যায় আকুতি, এর শাস্তি এটাই, চুপচাপ নিজের প্রেমিক সত্তা কে আড়াল করে দাও, অভিযোজন তত্ত্বের সবচেয়ে নিখুঁত প্রয়োগ করে ফেলতে হবে, আমাকে হয়ে যেতে হবে তীব্রতর বন্ধু, যেমন বন্ধু কখনো পালিয়ে যায়না, কখনো হারিয়ে যায়না, যেমন বন্ধু প্রেমিকের চেয়েও সাংঘাতিক ভাবে থেকে যেতে চায়, যেমন বন্ধু অপরদিকের কান্নার সঙ্গী হয়ে দুঃখ দের ওজন হাল্কা করে নিতে চায়, সত্যি বলতে যেমন বন্ধু পাওয়া যায়না এই মানুষের কর্পোরেট জঙ্গলে।


তুই তাড়িয়ে দিলে সেটা আমার মানবিকতার পরাজয়।


কিভাবে কখন কি হয় কেউ জানেনা, যেভাবে আইজাক এর আগে মানুষ জানত না আপেলের সাথে জমিনের সম্পর্ক, যদি আর কখনো আলাপ ই না হত, কিভাবে জানতাম যে আমি একাই এই উচ্চতায় ব্যাক্তিগত পরিসরে হা হুতাশ করছি ,একাই স্থির হয়ে বসে আছি, আর ভাবছি বিন্দুর মতন একা হয়ে গেলাম হয়তো, কিন্তু নই, তোর উপস্থিতি আমাকে বুঝতে শেখায় আমার গুরুত্ব, আমার অভিনবত্ব, তোর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে যেভাবে ডুবে যাই, সেভাবে আমার মতো সাবমেরিনের গায়ে তোর লেখা দের ও খোদাই হোক, অস্থায়ী ঋতুর ভিতর আমি কি একাই স্থায়ী হতে চাই?


এত বড় অন্যায়? এর জন্য শাস্তি হিসেবে তোর দিক থেকে কথা বলা কমে যায়? আয় , যেটুকু সম্ভব সুখ অসুখের কথা হেসে খেলে বলি...স্বাভাবিক হয়ে যাই।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...