রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

 



আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি তবে বোকা প্ল্যাঙ্কটন?  সামরিক বাহিনী নিপাত যাক,রাজমন্ত্র আসলে খেটে খাওয়া মানুষের নিশপিশ দহন, খানিক ব্যাগ ভর্তি শুকনো আনাজ।আমি আসলে ভাল থাকার ব্যখ্যা মানি না,নতুন মাশরুম এর ভবিষ্যৎ মহীরুহ্, এ কথা নিশ্চিত নয়, যদিও ফুরিয়ে যাওয়া মানে শেষ হয়ে যাওয়া নয়, অবিকল বেহায়া গদ্যের মতন করে এগিয়ে যেতে থাকব চোখে কালো কাপড় বেঁধে।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।


শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিক্ষক দিবস ২০২৫

 



শিক্ষক দিবস উদযাপনের চেয়ে শিক্ষক খেদানোর রমরমা টা এখন বেশি, কিরকম? রাষ্ট্র থেকে ছাত্র ছাত্রী,অভিভাবক, পাড়ার ঝান্ডা ধারি মোটা সোনার চেইন ঝোলানো মস্তান যে যখন পারছে খেদিয়ে দিচ্ছে।একজন সুস্থ নাগরিক হয়ে শিক্ষক এর আগে খেদানো শব্দ উচ্চারণ করতে হচ্ছে এটা আমার কাছে শুধু লজ্জার নয়,গোটা সমাজের কাছে লজ্জার । হ্যাপী টিচার্স ডে, সেলিব্রেশন নয়,বরং শ্রদ্ধায় নত হয়ে যেতে হয় এমন এক দিন, শিক্ষক কারা? শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এর বাইরে অসংখ্য মানুষ ,লঘু গুরু নির্বিশেষে ,এমনকি একটি ঘাস পোকা কিংবা মাকড়সা ও একটি শিক্ষক,এটা আরেকটু বৃহৎ প্রসঙ্গ, এটি তে তাই আমি যাচ্ছিনা,বুদ্ধিমান মানুষ নিশ্চই আমার বক্তব্য বুঝে গেছেন, নইলে বাকিরা আমাকে ভুল বুঝবেন, যাই হোক তবু পুরোটা পড়বেন। ফিরে আসি আজকের দিনের সাধারণ তাৎপর্য বর্তমানে কোথায়, দুর্নীতি গ্রস্থ শিক্ষক এর ভিড়,কে আসল কে নকল এর ভিড়, তিনু দাদা ঘাপটি মেরে শিক্ষকের মুখোশ পড়ে স্কুলের ভিতর দৌরাত্মের ভিড়, এসবের ঊর্ধ্বে প্রকৃত শিক্ষক দের অবস্থা কোথায়? তাদের জায়গা টা কোথায়? যে বাংলা মিডিয়াম এ পড়ে আমি বড় হয়েছি, সেই বাংলা মিডিয়াম কিভাবে কঙ্কাল সার হয়ে যাচ্ছে ,হয়ে গেছে,দেখে দুঃখ হয়, স্কুল বন্ধ হয়ে চলেছে অসংখ্য ( পরিসংখ্যান নিজে খুঁজে নেবেন) সুচারু পদ্ধতিতে বাংলা মিডিয়ামের কোমর ভেঙে দিয়ে ব্যবসার এক দারুন পথ ইংলিশ মিডিয়াম এর গজিয়ে ওঠা যত্র তত্র, আর বাবা মা এর সেকি অদ্ভুত আহ্লাদ, ছেলে কে "সাতটি তারার তিমির" বললে বোঝেনা অথচ সে ক্লাস নাইন অতিক্রম করেছে, সাত কে সেভেন বলতে হয়,তারা কে স্টার বলতে হয়, বাঙালি ধীরে ধীরে ব্রিটিশদের জোকার হয়ে যাচ্ছে,হাস্যকর একটা সব খুইয়ে ফেলা জাতি,তবু গর্বের অন্ত নেই। বাঙালি থেকে বাংলা চলে যাচ্ছে, অন্তঃসার শুন্য একটা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে, নকল একটা শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কত কত ছেলে মেয়ে,আর শিক্ষা টা হয়ে গেছে পয়সাওয়ালা দের অধিকার। উচ্চ মার্গের ডোনেশন যারা দিতে পারছিনা,তাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার জায়গা টা কোথায়? কি এক আলগা ছাত্রজীবন,কি এক অনিশ্চিত গন্তব্য,কি এক আদর্শহীন সময়, কেউ কবিতা পড়ছেনা,বই পড়ছেনা,এক পাতা টানা বাংলা রিডিং পড়তে না পারা প্রজন্ম,কপি পেস্ট কপি পেস্ট আর কপি পেস্টের শিক্ষা।এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আস্থা হারিয়ে কত ছেলে মেয়ে অসময়ে টাকা রোজগারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে , সেই সুযোগে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ঝান্ডা ওয়ালা দের সমাবেশ এর দিকে যাওয়া ম্যাটাডোর ।মানবিকতা ,আদর্শ,নীতিবোধ যা কিছুই শিক্ষক দের থেকে আমরা পেয়ে এসেছি, আজ এই যে বোধ থেকে দু কলম লিখতে পারছি ,তাদের ছায়া পেলোনা এই ছেলেমেয়ে গুলো।ভীষন যত্ন নিয়ে বানানো হচ্ছে এদের,রাষ্ট্র বানাচ্ছে এদের , শিক্ষা কে মৃত না বানালে ধর্মের অন্ধকার বপন হবে কিভাবে! অনৈতিক কাজ এর হাতেখড়ি হবে কিভাবে! ঠিক ভুল এর কোনো তফাত থাকা যাবে না,যোগ্য অযোগ্য বলে কোনো বস্তু থাকবে না,জঙ্গলের রাজত্ব তৈরী করতে হবে, বিদ্বেষ,ক্ষোভ,হিংসে,দুর্নীতি,অপরাধ,সমস্ত কিছু ঠেসে ঢুকিয়ে দিতে হবে, তৈরি করতে হবে রাজনৈতিক দল এর বশীকরণ এর অজস্র ফলাফল, যাদের রাষ্ট্র যাই বোঝাবে তাই বুঝবে, যন্তর মন্তর ঘর অদৃশ্য হলেও গোটা দেশ ই এই ঘর,আমরা যারা বুঝছি তারা সংখ্যা লঘু, ধর্মীয় নেশা ,জাতপাত,রাজনীতি নিয়ে মত্ত হয়ে আছি।শিক্ষার প্রসার কোথায়,প্রান্তিক মানুষ এর শিক্ষা দূরের কথা,মফস্বলের ছেলে মেয়েরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার পাচ্ছে? আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি রোজদিন।

প্রকৃত শিক্ষকদের যন্ত্রণা টের পাই,তারা সবটা দেখছেন,অস্বস্তিতে ভুগছেন,অনেকে মেনে নিয়েছেন , দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ করতে পারছেন না, এই রকম একটা বাল এর শিক্ষা ব্যবস্থায় দাড়িয়ে শিক্ষক দিবসে আমার মতন অছাত্র আর কি বা বলতে পারে, মেনে নাও বন্ধু, প্রণাম জানাই, আমার সেসব শিক্ষকদের ,যাদের নাম আমার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মাথায় থাকবে, প্রতিটা কবিতা গান লেখার আগে ,,প্রতিটা গম্ভীর ভাবনার আগে মনে হয় ভাবতে শেখানোর জন্য তো ওই শিক্ষকেরাই দায়ী,নইলে নিজেকেও হয়তো মেটেরিয়ালিস্টিক জীবনের পিছনে দৌড়ানো অবস্থায় খুঁজে পেতাম,কিংবা দিশাহীন নীতিহীন আদর্শহীন এক হালকা প্রজন্মের পোকা মাত্র তৈরি হতাম।

টেক্সট বুক এর বাইরে যেসকল শিক্ষক চিরকাল ছেলে মেয়েদের জীবন এর আদর্শ শিখিয়ে গেছেন,তাদের প্রতি আমার একটু অতিরিক্ত অগাধ শ্রদ্ধা বরাবর,ভালো থাকবেন প্রত্যেকে, মিস করি আপনাদের❤️

© অঞ্জন ঘোষ রায়

শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

নয় বছর পর - A Short Story by Anjan Ghosh Roy 2025

 

 নয় বছর পর - A Short Story

আজ অফিসে যাওয়ার সময় আগের ট্রেন টা মিস করে পরের ট্রেনে উঠলাম। ভিড় তেমন ছিল না, এক জনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি, সামনেই একটি মেয়ে—হাজবেন্ড সঙ্গে। মেয়েটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার দিকে তাকাল, আমিও তাকিয়ে থাকলাম কয়েক সেকেন্ড, মনে হচ্ছিল, চেনা, কিন্তু কোথায় কিভাবে মেমোরি বক্স খুলে খুঁজতে থাকলাম,খুঁজে পেলাম,

মেয়েটার হাসি একেবারে সেই ৯ বছর আগের মতোই। সাজগোজটা স্নিগ্ধ, মিষ্টি মুখ, সদ্য কয়েক মাস এর বিবাহিতা।বলে উঠল—“কেমন আছিস?”

আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল ৯ বছর আগের কথা। কলেজে পড়ার সময় একই টিচার এর কাছে মর্নিং ব্যাচে ‘অ্যাকাউন্টস’ পড়তে আসত ও, স্নিগ্ধ একটি মেয়ে। ওকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে হতো,ভালো লাগতো ওকে,এত বছর পর হঠাৎ দেখে বুকের ভিতর পায়রা ওড়ার শব্দ উঠল, এই রহস্য একান্ত আমার, এ খবর কেউ জানে না। ও ভালো ছিল পড়াশোনায় , আর আমি ঠিক তার উল্টো না হলেও, অত টা নই, তাই খুব একটা বেশি কথাবার্তা বলার সাহস হতো না।

এরপর ও হেসে আবার জিজ্ঞেস করল—“কবিতা লিখিস? গান গাস এখনো?”

পুরনো দিনের নস্টালজিয়া হঠাৎই ফিরে পেয়ে ,আমার ভীষণ ভালো লাগল, যাক মনে রেখেছে আমাকে এভাবে, এই পরিচিতি টাই তো চাই আমি, এতগুলো বছর পরেও আলাপ দেখা কিছু না থাকা সত্ত্বেও কেউ মনে রেখেছে আমি লিখতাম, গান গাইতাম,বিশাল প্রাপ্তি আমার কাছে, এই ছোট ছোট ঘটনা গুলো আমার কাছে আলাদা রূপে উপস্থিত হয়, ভেবে শান্তি পেলাম যে আমি কবিতা ছেড়ে দিইনি, আঁকড়ে ধরে রেখেছি,এগিয়ে চলেছি নিজের মতন করে। যদি সত্যি ছেড়ে দিতাম, আজ লজ্জায় মুখ দেখাতে পারতাম না,কি বলতাম? হেরে গেছি? একজন হেরে যাওয়া কবি আমি হতে চাইনি।

মানুষ টা মনে রেখেছে—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ও আমাকে মনে করিয়ে দিল আমার সেই শুরুর দিনগুলো, কবিতা লেখা আর গানের শুরুটা, গন্তব্য স্টেশন এলে ও নেমে গেলো হাজবেন্ডের সাথে, আমি নিজেকে জিগ্যেস করলাম আবার কি দেখা হবে? আবার কি ৯ বছর পর এভাবে দেখা হবে?

ওকে মনে মনে শুধু একটা কথাই বললাম—ভালো থাকিস সবসময়। একজন শিল্পীর কাছে এই স্বীকৃতিটুকুই আসল পাওনা,যেটা তুই ন বছর পর আচমকা দিয়ে দিলি, ভীষন ভালো থাকিস। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর ওর খানিক আগে বসে থাকা ফাঁকা সিট তখনও ওর মতো করেই আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, জিজ্ঞেস করছিল "কবিতা লিখিস এখনো? 


-© অঞ্জন ঘোষ রায়।।


রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫

SelfTalk - প্যাডেল

 

গান,কবিতা , এই দুটো জিনিস নিয়ে বহু বছর কেটে গেল আমার,নিজের মতন করে। কিছুই শিখিনি,কিংবা এভাবেই শিখছি হয়তো। সামাজিক মূল্য বলতে যেটা বোঝায় সেটা পাইনি,নিজের অক্ষমতা হিসেবেই ধরে নেওয়া মঙ্গল।সস্তা কন্টেন্ট বানিয়ে অনেক কিছু পেয়ে যাওয়ার সময় এটা,আমি সেই এক দায়সারা কবিতা আর নিজস্ব শান্ত সহজ গান নিয়ে ,কোনরকম ভাবে টিকে আছি।অদ্ভুত বিষয় এটাই, টিকে আছি।এই যে টিকে থাকা টা,এইযে না থামা টা,এই যে থেমে গিয়েও আবার শুরু করা টা,এইযে হেঁটে যাওয়াটা,কেন করছি????? শুধু নিজের ইচ্ছে বলে?? যদি কবিতা গান এসব না থাকত আমার কাছে দেওয়ার মতন,তখন আমি কি করতাম? কি জানি ..

আমি লেগে রয়েছি।পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী যারা ,প্রশংসা করে,উৎসাহ দ্যায়,ভালো লাগে। জীবন টা হল সাইকেল এর মতন, পড়ে যেতে না চাইলে প্যাডেল করতে হয়,কোথায় যেন শুনেছিলাম, আমি প্যাডেল থামাইনি, এখানে আমি মাধ্যম, ইউনিভার্স ই সব।আগামীতে কি হবে,কোথায় যাব, থামবো না দৌড়াবো,কিছুই জানিনা।সেটাও ইউনিভার্স এর হাতে,আমি কর্মী মাত্র।।

কেউ শুনুক না শুনুক ,গান তো আমি গাইবই,,

কেউ পড়ুক না পড়ুক কবিতাও আমি লিখব।

আমার থেকে সমাজ ঘৃণা বিদ্বেষ হিংসা না পাক, সেসব দেওয়ার অসংখ্য অজস্র মানুষ আছে,আমার থেকে সমাজ না হয় একটু গান পাক ,কবিতা পাক, যা কিছু ভালো আমার,তাই পাক, নিঃস্ব না হলে শিল্পীর মৃত্যু আসে না তো!

আর জন্ম ও সার্থকতা পায় না।।

_ অঞ্জন ঘোষ রায়।

শনিবার, ৭ জুন, ২০২৫

গাছ হত্যা

 

গাছ হত্যা 

এই বিপুল সংকীর্ণতা কোথায় লুকিয়ে রাখবে? 

গা বেয়ে পড়ছে জলীয় হিংসা, 

তোমার চোখ থেকে ঠিকড়ে বেরিয়ে আসছে 

গাছ হত্যার আকাঙ্ক্ষা।

ধুলো দিয়ে ছবি এঁকে অমরত্ব পেতে চেয়ে 

বর্ষা চেয়ে ফেলেছে নাক উঁচু মানুষ।

কাদের ঘুড়ি ওড়ানো যেনো  বানচাল হয়ে গেছে, 

হাওয়া তে দুঃখ মিশেছে বলে।।

© অঞ্জন ঘোষ রায়

বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫

মৃত মিথ


মৃত মিথ

© অঞ্জন ঘোষ রায় 

মৃতমিথ এর সাথে চুক্তি করেছে স্বাধীন যুক্তিবোধ।

যুদ্ধের আগে কেউ কখনো স্বেচ্ছায় রক্তদান করেনা ,

 মগজের ঠিকানার ট্যাগ লাগাই কবরের ঠিক নিচে,

ওরা ফিরে আসবে না বলেই ওদের খোরাক বানায় নগরপিতা,

ঘুরে ফিরে জল মেঘ ইত্যাদি সেজে আবার জলেই ভ্রমণ সেরে নিতে থাকে।

যারা জানি তারা জানি সময়ের খরা মৌসুমে,

কারা ঠিক আপাদমস্তক জলে ডুবে থাকে।।


© অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৩

রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

অন্তর্মুখী

 

অন্তর্মুখী - © অঞ্জন ঘোষ রায়।

একদমই দুশ্চিন্তাহীন একটা মানুষ আমি, নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যাই রোজ, ছোট চারাগাছ দের দেখি সকালে ঘুম থেকে উঠে, ন্যাড়া ছাতিম গাছের ডাল গুলিতে বসে থাকে বিভিন্ন পাখিদের দেখি, পুকুরের মাছ দের হাপুস হুপুস করে শ্বাস নেওয়া দেখি, ডুবে যাওয়া দেখি। ট্রেন এ উঠে মানুষের মুখ দেখি, জানলায় আলো দেখি, সানগ্লাস এ চোখ ঢাকি, কান্না হোক কিংবা রোদ। খুব আলোতে আমার অস্বস্তি হয়, অন্ধকারে আমার শান্তি লাগে, অনেক মানুষ এ আমার দম বন্ধ লাগে, একজন প্রিয় মানুষ এ আমার সুখের মিছিল। কেমন যেন একটা, আপাদ মস্তক ইতি বাচক নাকি নেতি বাচক , বুঝেই ওঠা যায়না। তবে ভিড় এর বাইরের কথা বলতে বলতে উপলব্ধি করা যায় , এখানে এক স্বকীয় আলো তো আছেই, তবুও একটা অন্তর্মুখী মানুষ শৈশব যুবক তো ঘাড় গুঁজেই আছে, চারদিকের এত আলো থেকে পালাচ্ছে আর পালাচ্ছে, যদিও যাহাই আলো তাহাই অন্ধকার,সেকথা সকলেই জানে। কাকে বলি এসব কথা?কাকে বোঝাই আমার দ্বারা কিস্যুই যে হবার নয়, কবিতা লিখেও কবিতা বেচতে জানিনা আমি, গান ভালবেসেও গান গাইতে জানিনা আমি।এই জন্ম আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে আশীর্বাদের মতন করে, কিন্তু পাত্র দ্যায়নি, জাতে ঢেলে আমি খেতে পারি বা খাওয়াতে পারি। আমার এগিয়ে যাওয়া ভালবেসে যেটুকু সম্ভব করে যাওয়া, করেও যাই, কিন্তু নিজের ভিতরে এত ফাঁকা ফাঁপা ফোঁকর আছে, তাদের আমি পূরণ করতে পারিনা। আমি এই ঘাটের ও না, ওই ঘাটের ও না, আমি ওই ছাতিম গাছের উপর এদিক ওদিক তাকাতে থাকা একলা চিল, যার আকাশে দাপট দেখানোর ইচ্ছা থাকলেও, ডানা ছোট থাকার কারনে মেনে নিতে হয়, এভাবেই জীবন কে মিষ্টি করে ভালবেসে নিতে হয়, তবুও নিজের না পারা গুলো নিয়ে লজ্জা হয়, এক ঘরে থাকি , জীবন কে ভালো ও বাসি।

মনে হয় , এই জীবন অতি দ্রুত কেটে যাক এবার,আমার তো আর কিছু ই করার নেই,যা কিছু নিজের আছে তোমার কাছে বরং গচ্ছিত রেখে যাই।।


মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...