নয় বছর পর - A Short Story
আজ অফিসে যাওয়ার সময় আগের ট্রেন টা মিস করে পরের ট্রেনে উঠলাম। ভিড় তেমন ছিল না, এক জনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি, সামনেই একটি মেয়ে—হাজবেন্ড সঙ্গে। মেয়েটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার দিকে তাকাল, আমিও তাকিয়ে থাকলাম কয়েক সেকেন্ড, মনে হচ্ছিল, চেনা, কিন্তু কোথায় কিভাবে মেমোরি বক্স খুলে খুঁজতে থাকলাম,খুঁজে পেলাম,
মেয়েটার হাসি একেবারে সেই ৯ বছর আগের মতোই। সাজগোজটা স্নিগ্ধ, মিষ্টি মুখ, সদ্য কয়েক মাস এর বিবাহিতা।বলে উঠল—“কেমন আছিস?”
আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল ৯ বছর আগের কথা। কলেজে পড়ার সময় একই টিচার এর কাছে মর্নিং ব্যাচে ‘অ্যাকাউন্টস’ পড়তে আসত ও, স্নিগ্ধ একটি মেয়ে। ওকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে হতো,ভালো লাগতো ওকে,এত বছর পর হঠাৎ দেখে বুকের ভিতর পায়রা ওড়ার শব্দ উঠল, এই রহস্য একান্ত আমার, এ খবর কেউ জানে না। ও ভালো ছিল পড়াশোনায় , আর আমি ঠিক তার উল্টো না হলেও, অত টা নই, তাই খুব একটা বেশি কথাবার্তা বলার সাহস হতো না।
এরপর ও হেসে আবার জিজ্ঞেস করল—“কবিতা লিখিস? গান গাস এখনো?”
পুরনো দিনের নস্টালজিয়া হঠাৎই ফিরে পেয়ে ,আমার ভীষণ ভালো লাগল, যাক মনে রেখেছে আমাকে এভাবে, এই পরিচিতি টাই তো চাই আমি, এতগুলো বছর পরেও আলাপ দেখা কিছু না থাকা সত্ত্বেও কেউ মনে রেখেছে আমি লিখতাম, গান গাইতাম,বিশাল প্রাপ্তি আমার কাছে, এই ছোট ছোট ঘটনা গুলো আমার কাছে আলাদা রূপে উপস্থিত হয়, ভেবে শান্তি পেলাম যে আমি কবিতা ছেড়ে দিইনি, আঁকড়ে ধরে রেখেছি,এগিয়ে চলেছি নিজের মতন করে। যদি সত্যি ছেড়ে দিতাম, আজ লজ্জায় মুখ দেখাতে পারতাম না,কি বলতাম? হেরে গেছি? একজন হেরে যাওয়া কবি আমি হতে চাইনি।
মানুষ টা মনে রেখেছে—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ও আমাকে মনে করিয়ে দিল আমার সেই শুরুর দিনগুলো, কবিতা লেখা আর গানের শুরুটা, গন্তব্য স্টেশন এলে ও নেমে গেলো হাজবেন্ডের সাথে, আমি নিজেকে জিগ্যেস করলাম আবার কি দেখা হবে? আবার কি ৯ বছর পর এভাবে দেখা হবে?
ওকে মনে মনে শুধু একটা কথাই বললাম—ভালো থাকিস সবসময়। একজন শিল্পীর কাছে এই স্বীকৃতিটুকুই আসল পাওনা,যেটা তুই ন বছর পর আচমকা দিয়ে দিলি, ভীষন ভালো থাকিস। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর ওর খানিক আগে বসে থাকা ফাঁকা সিট তখনও ওর মতো করেই আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, জিজ্ঞেস করছিল "কবিতা লিখিস এখনো?
-© অঞ্জন ঘোষ রায়।।
