মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩

লাজুক প্যাঁচা | অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

 






কবিতা - লাজুক প্যাঁচা 

© অঞ্জন ঘোষ রায়।


বৃত্ত আঁকতে গেলে হাত কেঁপে যায়,

শোরগোল ভর্তি মাথার ভিতর একটা ফাঁকা বেঞ্চ,

এক ইঞ্চি ফুরফুরে জগৎ প্রবেশ করলে

সব চুপ,কেউ ভালো নেই,

পালক নরম বিছানায় ভালোবাসা - ঘুম থাকে না ।


হাওয়া তে নাট্যচর্চা অদৃশ্য মানুষের কাজ,

কোনো কার্নিভাল তেমনই দুর্বল মানুষের নয়।

শব্দের গর্ভপাতে নীরবতা জন্মায়,

আর অন্ধকারে নদীর শব্দে, বিমর্ষতা।


কোনো চাঁদ এর ছায়া রক্তের উপর পড়লে 

নিজেকে আততায়ী ধরে নেওয়া যায়,

হিজিবিজি মন এর টানেল কখনোই 

ফর্সা কেনো হয় না?

ঔপনিবেশিক যন্ত্রনায় কিসের কপিরাইট থাকে মানুষের? উত্তর বেপাত্তা।


উত্তর ডুবে গেছে নির্ঘুম বেডরুমের 

বেলাগাম খোলা থাকা জানলায়।

যেখানে নিজস্ব জঙ্গলের ভিতর দিয়ে 

বাঁশি বাজায় কোনো আত্মসুখ খুঁজতে থাকা

তুলতুলে লাজুক প্যাঁচা।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।




রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

খবরের কাগজ | Khoborer Kagoj | Anan Ghosh Roy Kobita






কবিতা - খবরের কাগজ | © অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৩


খবর ফুরিয়ে গেলে যেটুকু কাগজ বাকি থাকে,

সেখানে কোনো কালি থাকে না।

ফুটপাথ দিয়ে কোনো মানুষ হেঁটে গেলে 

তার চোখ ফুটপাথে বসবাস করে।

ঢেউ কেটে কেটে পাথুরে মেঘ বানানো 

শিল্পীর কাজ নয়,

মন নিজস্ব যুক্তি দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে থেমে গেলে,

স্রোত এর দরকার হয়।

খামোকা কাঁটা চামচ এর নিচে

তরল এর আহ্লাদ জমে থাকে,

প্রয়োজন নেই ,তবুও।

দেশ এ গরীব এর সংখ্যা বৃদ্ধিতে

পতাকা শোভা পায় বোধ হয়।

রাষ্ট্র ল্যাংটো হলে নাগরিক এর দুঃখ বাড়ে,

যে ফুল গাছ এ পাতা কম থাকে তাকে

 চিরকাল অসুস্থ মনে হয়।

© অঞ্জন ঘোষ রায়।

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

অসতী পুরুষত্বের ফ্যান্টাসি

 



অসতী পুরুষত্বের ফ্যান্টাসি

© Anjan Ghosh Roy


মূলত আয়নার সামনে যাকে আমি দেখতে পাই
সে অত্যন্ত স্বচ্ছ সাহসী একজন বদ - লম্পট
দাগী চরিত্রের মানুষ।


যে হাসলে আমি তাকে ঘৃনা করি,
যে প্রেমিক সাজলে আমি তাকে কামুক প্রতিবিম্ব ছাড়া,
আর কোনো কিছুই ভাবতে পারিনা।


সমস্ত কিছু প্রকাশ পেলে তাকে থুতু দিয়ে চলে যেতে পারে
অধিকাংশ তথাকথিত ভদ্দর নোক অথবা মহিলা,
আমার আয়না আমার অসতী পুরুষত্বের
ফ্যান্টাসি বহন করে।


কেউ পাথর ছুঁড়ে মারতে গেলেও,
আমি বাধা দেবো না কখনোই,
কারণ তারা আমার আয়নার চরিত্র কে
হজম করতে অক্ষম ,


এটা ধ্রুব সত্যি দের মতোই ব্যাপক চকচকে।।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

রাজসাক্ষী - একটি কালো বেড়াল | অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

"রাজসাক্ষী - একটি বেড়াল"

©Anjan Ghosh Roy






জেলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো 

একটি কালো বিড়াল, নিঃশব্দে, শয়তান গদ্যের মতন

নখের আঁচড় এ নির্ঘাত শিকার লাল।

রাষ্ট্রের মাথার ভিতর অন্ধকারের জ্বর

আরো জাকিয়ে বসেছে,

কনফারেন্স চালিয়ে কোনো লাভ হয়নি তাতে

উদ্ধার হয়নি কোনো লুকোনো বুক পকেট।

সস্তার মদের নেশায় গাছ গুলো সব রাস্তায় শুয়ে,

পাতা মাড়িয়ে যায় একদল নির্ভীক গরীব কবি,

মেরুদণ্ড কি ভীষণ তীব্র।

কাগজের নৌকা শুকনো রাস্তায় ধুলো গায়ে 

স্তূপ হয়ে আছে,

 লাশ এর ওজন বইতে পারেনি।

ঠাণ্ডা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে দু নম্বরী মাছ,

বিক্রি হবে চড়া দামে,

কেউ জানে না অক্ষর গুলো অশ্লীল হলে 

পৃথিবীর কতখানি ভালো হবে,

নাগরিকের মুখে বোকা রক্ত উঠে যায়,

ফাঁকা স্যালারি তারিখের খামে।।


# Anjan Ghosh Roy

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২

পথভ্রষ্ট জাত - একটি কবিতা

 

স্বপ্নভ্রষ্ট জাত (©Anjan Ghosh Roy)

----------------------------------------

একটা স্বপ্নভ্রষ্ট জাত 

পরিযায়ী হয়ে উধাও হয়ে গেল 

হাড় পাঁজরের নোংরা নগরে।

আমি কি তাকেই মানুষ বলি 

যে নিজস্ব প্রতিবেদন জানে না?


যেখানে শ্যাওলা ধরা রাত নেই,

শান্তি - মায়া ঘুম নেই, 

উদোম - উন্মাদ কাম নেই

চুম্বনরত ঝিনুকের অস্ফুট ছবি

যেখানে অহেতুক বাতেলা মাত্র!

কিংবা ঝাউবনে 

কদর্য শিশির স্নানের শেষে হাওয়া দিলে

 শিউরে ওঠার নগদ বিবরণ পাওয়া যায় না।


সেখানে মানুষ থাকে? কোনো প্রজাতি?

আমাকে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছে

 আমার মোহময় কবিত্বের সত্তা,

কিসের প্রেক্ষাপটে আমি বাঁচার কথা ভাবাই বা ভাবি!


ভিত্তিহীন রদ্দি প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে যায় একরকম।


সমস্ত টা এলোচুলা সামুদ্রিক ঝড় এর মতন,

অভ্যেস এর শুরু - শেষের ভিতর ,

ধ্বংস - সৃষ্টির ভিতর,

বয়ে যাওয়া জীবন এক পরিমাপক ।


স্বপ্ন দেখে তার অনুসরণ এর মধ্যে থাকে

 একরকম হারিয়ে যাওয়া,

বাস্তবিক ভাবে 


স্বপ্ন ভ্রষ্ট জাত এর নির্মেদ বাতুলতা।।


©অঞ্জন ঘোষ রায়

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

একটি কথোপকথন - চারাগাছ /লিখেছেন - নামাবলী ও অঞ্জন ঘোষ রায়/২০১৯



কথোপকথন - চারাগাছ
দুটি চরিত্র - চারাগাছ ও প্রেমিক
লেখায় - নামাবলী এবং অঞ্জন ঘোষ রায়।

_এই যে উপত্যকা!তোমার জন্য। পছন্দ?

_তা পছন্দ,বেশ।তবে এক কাজ করো,
গাছ লাগিয়ে দিও দুটো,বুঝলে!
অক্সিজেনটা কমে গ্যাছে, সবুজের শান্তিটাও উধাও🙂

_হুম,হবে হবে। গাছ লাগানো হবে,চিন্তা নেই।

_ বৃক্ষরোপনটা কিন্তু শুধু পরিবেশ দিবসেই সীমাবদ্ধ!

_আমি তো সবসময় গতানুগতিক এর বিরুদ্ধে চলি।তাই ওই দিন টা বাদে, সারা বছর ই ওই কাজটা করতে পারি ।তবে চারাগাছ , সম্মতি দিলে।

_চারাটা বড়ো করতে পারবে?

_চারা টা বড় করা যায়,যদি তার নিজের ইচ্ছা থাকে । নইলে একার চেষ্টায় কত ই বা বাড়ানো যায়। অধিকার বোধ তখন জোর খাটানোর দিকে এগিয়ে যাবে।আমি জোর খাটাতে চাই না যে।

_বেড়া দিয়ে ঘিরে দেবো!
সূর্যকেও বলবো স্নেহের চোখে দেখতে
বৃষ্টিকেও বলা আছে হালকা স্নান করাতে

_ ওহ,তাহলে তো আর কোনো অসুবিধে দেখি না।চারা নির্দ্বিধায় বাড়তে পারবে। খেয়াল রাখব।নাহ্,রাখব না,চেষ্টা করব।আসলে নিজেরই বা খেয়াল রাখি কই!

_খেয়ালে কি চারা বাড়ে!
চারা বেখেয়াল চায় একটু।অবহেলা চায়,উপেক্ষা চায়
তবে না শক্ত হবে,শিকড় টা গভীরে যেতে হবে তো!

_ তবে তাই হোক! চারা যা চাইবে সেটা দিয়েই হবে।
আমি বরং আলপথ ধরে হাঁটব।বনলতার স্বপ্ন দেখব।সাদা বক গুনব।গান গাইব, যে গান এর কথা জানা নেই।
মাঝে মাঝে ক্লান্ত হলে চারার পাশে এসে জিজ্ঞেস করব,, কেমন আছো?
মন খারাপ হলে,যেচে জানতে চাইব, আমি যে ভালো নেই, তা বুঝতে পারো??
চারা বলবে,, কেনো ভালো নেই??
আমি বলব,, তোমার কাছে থাকা হয় না যে!
চারা বলবে- যাহ,মরণ দশা!

_ চারা আবার উতলা হবে জিজ্ঞেস করবে,
-এই বলোনা সত্যি ভালো নেই?
-নাহ, সত্যিই।

-এত অধৈর্য্য ক্যানো তুমি! তুমি পাশে থাকলে স্বপ্ন সাহস পায়...তুমি আজও আছো আমি জানি,তুমি স্মৃতিতে আমাকে খোঁজো...আমি স্মৃতিতে সাদা কালো কিন্তু এখন আমি রঙিন। এতদিন পর এতখানি আলপথ হাঁটতে গিয়ে বনলতা খুঁজেছিলে কিন্তু জানতেইনা আমিই মাধবীলতা গন্ধ মেখেছিলাম...

_আমি বলব,
তা কি জানতাম না ভেবেছ? নাকি জানি না?.
সবটা বুঝি,জানি ।কিছু করার নেই।আসলে আমার ভালো লাগে আকাশ দেখে দিন কাটাতে।পথে পথে ঘুরে ,ঘাস পাড়িয়ে যেতে,জল এর নিচের দিকে তাকাতে পুকুরের, ভালো লাগে। একটা শান্তি পাই।কিন্তু যখনই খেঁয়াল হয়,তুমি অনেকটা দূরে এই খানে,চুপ করে বসে আছো,একা একা। আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না। বিশ্বাস করো।আমার ইচ্ছে করে তছনছ করে দি সব।তোমার কাছে এসে বসি,জিজ্ঞেস করি,
আজ শরীর টা ভালো আছে তো?
তোমার গতকাল জ্বর ছিল।আমাকে জানাওনি। তোমার কপাল ছুয়ে মন টা খারাপ হতে হতে ভালো হয় গেছিল,তুমি যখন আমার আঙ্গুল  ছুয়ে দিয়ে বলেছিল।যাও তুমি আকাশ দেখে এসো।

__-ওটা তো আমার অভিমান ছিল...!!
ওহ তুমি তো আবার অভিমান ভাঙাওনা,তুমি তো অপেক্ষা করো!
জানো আমিও অপেক্ষা করেছিলাম, মাধবিলতাটাও বেহায়া,শুকিয়েই গ্যালো।

-না সেরকম না , আকাশে আমি নৌকা দেখি তুমি দেখেছো? আমিওই শান্তিটার কথা বললাম না! ওটা আমি তোমার মধ্যে খুঁজতে গেছিলাম; কিন্তু, কিন্তু তুমি বড্ড নবীন, খুব ছটফটে।
-আচ্ছা তবে আজ থেকে শান্ত হলাম,কথা রাখার আগে সেটাকে বাড়তে দিতে নেই জানো তো?
চারার ইচ্ছা হয় তোমাকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু ততক্ষণে তুমি অনেকখানি দূরে,আলের ওপর দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছো, রোদে তোমার চারার কষ্ট হচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে সে, তুমি বেখেয়াল।

_ আমাকে আর অপরাধী কোরো না । কাদতে ইচ্ছে করছে।
আমি এমনই ,কি করতে পারি! আমি তোমাকে ভালোবাসি এটা তুমিও জানো,আমিও জানি।
এই বেখেয়াল পণা টা আমার দূরে রাখতে হবে।কিন্তু তুমি কি এটা জাননা যে বেখেয়ালি একজন কবির শক্তির উৎস।সেটা দূরে সরালে আমি তো কিচ্ছু নই! তখন আমায় চিনতে পারবে তো? বলো পারবে? তুমি চাও  আমি শুধু তোমার ছায়ায় বসে থাকি? গোটা পৃথিবী কে যে আমার প্রয়োজন ।তুমি তো বোঝ!
আমি তোমাকে অনাদরে রেখেছি । আমি স্বীকার করি।তবে সম্পূর্ণ দায় কি শুধু আমার?

_: তুমি ভাবলে কি আমি কবির প্রেয়সী? আমি তোমার হতে চেয়েছি, সবুজ সাজ ছেড়ে রক্তস্রাবে সেজেছি।
ভালবাসলেই কি হয়? বাঁচাতে পারছো তুমি আমাকে? সূর্য আর বর্ষাকে বলেই খালাস তারা যে আমাকে নগ্ন অবহেলায় রাখে সেটাও তো জানোনা। অভিযোগের পোশাকে অপরাধী হতে তোমার দ্বিধা নেই অথচ ভালোবাসায় তোমার দ্বন্দ্ব। কে বলে ভালোবাসা আটকে রাখে বেঁধে রাখে!
ভালোবাসা তো ছায়ায় বাঁধেনা ভালোবাসা বাঁচতে দেয়,পারবে বাঁচতে? পারবে ? বলো, পারবে?
পৃথিবী জুড়ে আমার শিকড় ছড়িয়ে যাচ্ছে সেটা ভুলে যাও কিভাবে! এত বোকা তুমি, হ্যাঁ গ এতটা!

__ ঠিক বলেছ। আমি বোকা।
আমি তোমাকে  এভাবে বাঁচিয়ে রাখব কখনোই ভাবিনি।কিন্তু রেখেছি। বুঝতেই পারিনি,তোমার শিকড় আমাদের পৃথিবী কে জড়িয়ে ধরছে।বুঝতে পারিনি সূর্য তোমাকে নগ্ন করে রোজ আগুন পোহায়।
আমি শুধু হা করে আকাশ দেখে গেছি,পথিক এর পথ চিনে গেছি,
তোমাকে এভাবে বাঁচিয়ে আমি অজান্তেই নিজেকে অপমান করেছি।তোমাকে করেছি।আমাদের সম্পর্ক কে করেছি।
আত্ম গ্লানি বিষ এর থেকেও ঘন অন্ধকার হয়। তুমি জানো কি? নিশ্চই জানো।
আমার উপায় নেই আর কোনো। আমি ভালো নেই,তুমি নেই,,,ভালো থাকা যায় না আর । আমি দিক হারিয়েছি। এই নাও একটা ধারালো কিছু আছে।নিজেকে শেষ করো। আমাকে শাস্তি দাও
উপায় নেই,তারপর দেখি নিজেকে কিভাবে ক্ষমা করি।

__ নাহ্,না,না..."শেষে" আমি প্রাণ পাইনা।
তুমি ক্ষুদ্র মানুষ,আমার উদ্দেশ্য মহৎ!
তুমি আকাশ দেখেছো নাকি আকাশের নগ্নতা উপভোগ করেছো? কামুক তুমি,কামুক!
ভর্ৎসনা করবোনা তোমাকে,তুমি আমাকে ভালোবেসেছো, জন্মের প্রথম কাপড় দিয়েছো।
এই আলের ধরে যে জমিটা আছে ওখানে সরষের চাষ,ওই হলুদ রংটা আমাকে বসন্ত দিয়েছে,ওকে আমি ভুলি ক্যামনে?
তোমার উপায় তোমার বিষ,গিলতে তো পারবেনা তুমি।শিকড়ের রসে বাঁচিয়ে রাখবো তোমাকে,কিন্তু,কিন্তু তুমি মিজেকে রোজ দ্যাখো আয়নায়।এই একটুকর কাঁচ দিলাম,পারদ টা খুঁজে আনো। এতে মুখ দেখো,সূর্যের লালসা দেখো,বৃষ্টির রাক্ষুসে কামনা দেখো। পঙ্কিল তুমি! পঙ্কিল

_ আমি হেরে গেছি গো,
হেরে গেছি। আমার সমস্ত কবিতা বৃথা।
নষ্ট কবিতা লিখে গেছি দিনের পর দিন।
আমি স্বীকার করি,আকাশ এর উদার খোলা শরীর আমাকে কামুক করে তুলেছে।আমি বারবার ছুটে গেছি তাই।কিন্তু আমি কবিতা লিখেছি তা থেকে।সে কবিতা প্রজন্ম ভালোবাসছে।জানো আগামী সপ্তায় আমাকে পুরস্কার দেওয়া হবে তার জন্য।আমি পুরস্কৃত হব ।
কিন্তু, কিন্তু এসব ,আর
আমার চাইনা। যেখানে তোমার ভিতর আমার অবস্থান এমন সংকটে। আমার এসবে কি লাভ!
আমি কামুক,আমি পঙ্কিল।
আমি চরিত্রহীন,দায়িত্ব হীন,,
শেষ অনুরোধ একটিবার ,
আমাকে তোমার কাছে বসতে দেবে
কিছুক্ষণ???
তারপর এই জন্মে আমার মুখ আর দেখাব না।কথা দিলাম

__: বসবে,তুমি?
তাহলে মাধবীযতটা জড়িয়ে আসি ক্যামন?
কিন্তু তুমি কি জানো, মুখ না দেখালেও ওই যে তোমার মনটা ওটার বীজ আমার শিকড়ে জিন রেখে দিয়েছে নিজের?
আকাশের শরীরে তুমি উষ্ণতা খুঁজেছিলে,কিন্তু তুমি শীতলতা পেয়েছো। তাই বলেই কি আজ আবার ওম পেতে, উষ্ণতার লোভ জেগে উঠেছে তোমার?
তোমার কবিতা,তার না আছে ছন্দ না আছে অসাধারণত্ব। তুমি গদ্যের মতোই মধ্যবিত্ত।
আচ্ছা ওই উপহারদাতা ওরা জানে,তোমার কবিতায় চরিত্র বলে কিছু নেই? সবটা অন্ধকার গলির হিংস্র পাগল কুকুরটার কামুক আচরণের কল্পনা?

__ তুমি বারবার আমায় বিধছ।
আমার কষ্ট হচ্ছে বিশ্বাস করো।
তুমি ভুল বুঝলে আমার কষ্ট হয়।বাইরেটা দেখে কীভাবে তুমি বিচার করছ।
তোমারই বা দোষ কি!
আমার অসহায়তা আমি বলি কাকে!
আমি ওম পেতে আসিনি।
আমি আকাশের বুকেও যাব না ।
বিশ্বাস করো এটুকু,ইচ্ছে হলে।
আমি অনেক দূরে যাব,সেখানে কোনো আকাশ নেই,তুমি নেই শুধু অন্ধকার।
আর কোনো রাস্তা নেই।এরপরে ও বেঁচে থাকা আমার হয় না।আমি মুক্তি চাই।
থাক আমার আবাল কবিতা,থাক আমার পুরস্কার।
মৃত্যুর থেকে বড় পুরস্কার আর কিছু হয় না।
আমি তবে যাই।

_: দেখেছো তো ক্যানো তোমাকে ঘেন্না হয় আমার আজকাল?
তুমি যেতে চাও,মুক্তি চাও,তবে তুমি আমাকে চাওনা।
তুমি একটা স্বার্থপর,নিজের টা নাকি তুমি ভালো বোঝো, এতসিনে বুঝেছি কোনটা তোমার ভালো বুঝে নেওয়া।
উন্মাদ যৌবনে মেতেছো তুমি,নবীনকে অপক্ক ভাবতে ভাবতে ভুলেই গ্যাছো শিকড় শক্ত হচ্ছে।
রাস্তা আছে ওই আলপথ যেখানে তুমি সাদা বক দেখো,সেই সাদা বক কে ডেকো সে তোমাকে বুকের বদলে একখানি উঠান দেবে।
নগ্নতার বদলে,তোমাকে খানিক আমার গন্ধ দেবে,বুনো গন্ধ।
নেশা করেছো কখনো? আমার নেশা? কাছে টানার মতো সবুজ নেশা?
তুমি বীর ভাব নিজেকে,পুরুষ ভাবো নিজেকে অথচ হৃদয় ভাবনি নিজেকে।
হৃদয় ভেবে দেখো তোমার ফুটপাথ কবিতায় শব্দ আসবে দেখো,পুরস্কারের লোভে না ছুটে জিবিনের লোভে ছোটো।

__ দামী কথা বললে।
তুমি যা খুশি বলতে পারো। আমি তোমাকে চাই,মনে প্রাণে চাই
কিন্তু সে মুখ আমার নেই্,আমি রাখিনি
।আমি আর কিছুই চাইনা।আর লাভ নেই কোনো ভাবেই আমি যা ঠিক করি সেটাই করে থাকি।তুমি জানো
তোমায় ভালো রাখতে পারিনি ঠিক কথা।
কিন্তু তুমি হয়ত জাননা,তুমি পড়ে ছিলে একটা নোংরা পিশাচ এর ঘরে।তোমার জ্ঞান ছিল না। আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে নিজেকে খালি করে তার পরিবর্তে তোমাকে এখানে এনে প্রাণ দিয়েছি
এই উপত্যকা শুধু তোমার জন্যেই বানিয়েছি।শুধু তোমার কথা ভেবে।
আমি যা ঠিক করেছিলাম,করেছি ।
কেউ আটকাতে পারেনি।
এবারও তাই হবে। আর পিছনে তাকানোর রাস্তা নেই।যেতে দাও।অনুমতি দাও ,আমি যাই।

_বেশ তবে যাও,তুমি আমাকে চাও তবে ভালোবাসো না।
তুমি নিজের অজান্তেই চাই চাই রব তোলো,আর সেখানেও তুমি তোমার পাটিগণিতকে আনো।তুমি হয়তো ভুল নও,ভুল আমার ভাবনার দিক,ভুল আমার চিন্তা।
আমাকে ভালো রাখার আগে একটিবার নিজেকে তো ভালো রাখতে! আমার সত্যিই উপত্যকা দরকার ছিলোনা। একচিলতে জমি আনলেই হতো, আমাকে সুখ দিচ্ছ,অধিকার দিচ্ছ ভেবে তুমি উপত্যকা কে ন্যাড়া করে দিয়েছো,আমাকে রানী করতে গিয়ে তুমি রাজ্য উজাড় করেছ। সেই রাজ্যে শুধু তোমার চরিত্রের নোংরা গন্ধ পাই আমি।
তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমি শিখে গেছি,এই নবীনও শিখে গ্যাছে,চলে যাও তুমি , চলে যাও...নিজেকে উজাড় করে তোমার অক্সিজেন যোগান আমি দিয়ে দেবো। যাও! যাও!

_ বেশ। বেশ।
এটাই হবার ছিল তবে।
কখনো দূরে গিয়েও ভালোবাসা যায়,তোমাকে নিস্তার দেওয়া টা আমার কর্তব্য।আমার মনন এর কর্তব্য। আমি আর ভাবছিনা কিছু।শুধু ভাবছি,তুমি দিনে দিনে বেড়ে উঠবে,সেখানে কত কেউ আসবে,তুমি কাউকে তো ঠিকই জুড়ে নেবে।
তার কাছে তার বুকে মুখ লুকিয়ে আমার গল্প করবে, আমার চরিত্র কতটা নোংরা ছিল।তোমার ঘেন্না হয়,গোটা সংসার এর কাছে তুমি রটিয়ে দেবে,প্রত্যেকে র ভিতরে একটা কথা ছড়িয়ে যাবে, আমি কতটা নোংরা চরিত্রের ছিলাম।
আমি তোমার কথা ভেবে এই উপত্যকা বানালাম। যা তোমার দরকারি নয়।আমি যা কিছু করেছি তোমার জন্য,সেসব আজ আর বলতে চাইনা,যাওয়ার বেলায়।বলতে নেই।কিন্তু যা করেছি সত্যি কি কিছুই দরকার নেই?
আমার প্রয়োজন কি ফুরিয়ে গেছে পুরোপুরি?
তুমি ভালো থাকবে তো? ভালো থাকবে?

__হওয়ার ছিলো কি ছিলোনা সেটা ঠিক করার আমি কে? তুমিই বা কে!
দূরে গিয়ে ভালোবাসতে হয়না আলাদা করে
ভালোবাসলে এমনিই বাসা যায়...
আমি বেড়ে উঠবো উপত্যকাটায় ছড়িয়ে যাবে আমার সন্তান, ছায়াতে কতজনই আসবে,কতজন আঁচড়াবে আমাকে।
কিন্তু তোমার মতন?কিংবা তোমার চেয়েও ভালো কেউ এলে আমি মুখ ফিরিয়েই রাখবো,আমার হৃৎস্পন্দন তোমার বুকেই শান্তি পায়। তুমি আজও তা বোঝোনা, নাকি বুঝতে চাওনা!
আমি না,আমি কোনোদিন তোমার মধ্যে আমার দরকারকে খুঁজিনি জানতো! প্রয়োজনে তোমাকে ডাকিনি,মনে মনে প্রত্যাশা করে গেছি।
ভালো থাকা আমার জন্যে নয়,সে তুমি জানোই। আমি সবার ভার কাঁধে নিয়ে চলি, সবার ভালো থাকা আমার, কিন্তু আমার ভালোথাকা কারোর নয়।
আর একটা কথাও বোলো না ,যাও তুমি।
_ঠিক আছে,চললাম।।
কুয়াশায় ঢেকে গেল গোটা উপত্যকা,প্রেমিক মিলিয়ে গেল আস্তে আস্তে করে। চারা গাছ মৃতপ্রায় ,শুকনো ঠোঁট।
লেখায় -
নামাবলী/ অঞ্জন ঘোষ রায়।

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯

স্নিগ্ধার জন্যে লেখা চিঠি | © অঞ্জন ঘোষ রায় | 2019 | anjan ghosh Roy poetry



(স্নিগ্ধার জন্যে লেখা চিঠি)

চিঠি আমি তোর জন্য কখনো লিখিনি স্নিগ্ধা। তবু লিখতে হবে । দরকার টা কি ছিল এমন আবদার এর হঠাৎ?যাই হোক,আমি চেষ্টা করতে পারি বড়জোর।তুই কার্সিয়াং এ বসে অপেক্ষা করবি বলেছিস এই চিঠির।
এরকমই অপেক্ষায় আমি একসময় তোকে হারিয়ে ছিলাম।আমি ই হারিয়েছিলাম, নাকি তুই আমাকে!সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারিনা এখনো।
এই বার এর অপেক্ষায় আমি তোকে ফেরাবনা,সেজন্যেই এখন লিখতে বসা,তোর জন্য লিখব।
পৌনে একটা বাজে,আজ খাওয়া হয়নি তেমন কিছু রাতে।ভাড়া বাড়িতে থাকি,মাসমাইনের অর্ধেক টা দিয়ে দিতে হয় সেখানেই।মাসের শেষ দুয়েকদিন এমন ভাবেই চলে, হাওয়া আর জল খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি।এসব কথা তোকে বলে কাজ নেই স্নিগ্ধা,তুই ভালই আছিস,আমিও।
জানি তবু প্রায় রোজ রাতেই তোর ঘুম এর বরাদ্দ সময়ের ভাগ আমাকে দিস,রোজ ঘর থেকে পালিয়ে আসিস রাত হলে এই বাবুইঘাটা য়।
আমি তো দোতলার এই ঘরের জানলা দিয়ে রোজ চাঁদ দেখি,অমাবস্যায় খুব একা লাগে,আকাশ টা অন্ধকার,ফাঁকা লাগে।
আমি ভেবে নিই তুই দাড়িয়ে আছিস ল্যাম্পোস্ট এর নিচে, তোর ছায়া পড়েছে শিবু মিত্রর গেটের সামনে।একটু পরেই চলে যাবি।
রোজ আসিস তুই কার্শিয়াং থেকে এখানে,আমার খোজ নিতে,এই ভেবে ভালো থাকি।
পড়ে খেয়াল হয় ছায়াটা মিটার ঘর এর পিছনে থাকা শুকনো ডুমুর গাছ এর।
সতেরো টা বছর কেটে গেছে,তোকে দেখিনি আমি,জানিও না কেমন আছিস।ফেসবুক  এ আমি লেখালেখি করি অল্প স্বল্প,পরশু দিন এর কবিতায় তোর স্নিগ্ধা নাম এর মন্তব্য আমাকে তোর হদিস দ্যায়।
আর তার পর নতুন করে আলাপ । তোর আবদার,চিঠি লিখতেই হবে,আমি লিখছি।
অনেক কথা জমে আছে,অনেক অনুভূতি,প্রেম,অভিমান,ব্যর্থতা,কষ্ট।এভাবে দুপাতায় কিভাবে শেষ হয়!
তবু লিখছি।আমি কাদছি।অনেকদিন পর।তোর বাবার দেখা ছেলের কাছে আমি হেরে গেছি,জিতে গেছি নিজের কাছে ,কবিতা লেখা ছাড়িনি,লাভ  হয় না কিছুই,তাও,তোকে ভালবাসি এখনো ।
সন্তোষ লেন এ চিরকাল দাড়িয়ে থাকা ম্যাটাডোর টার আড়ালে সেই সন্ধ্যে টা মনে আছে তোর? আমি এখনো যাই ,যখন তোকে মনে পড়ে খুব।তোর  সেভাবে আমার কথা মনে পড়ে কখনো? কিজানি হয়ত বা।আমি ভালো আছি,ফাটা মেঝে,ছেড়া তোষক,ভাঙা চৌকি,পুরোনো গিটার, ডাইরি,ফ্যাকাশে জামা,খুচরো,সিলিং চুইয়ে জল,ঘরে ঢুকে আসা জোনাকী,আর জানলায় চাঁদ সব কিছু নিয়ে আমি ভালো আছি।
স্নিগ্ধা,তুই ও ভালো থাকিস,জানি ভালো আছিস,ভালো থাক।
©অঞ্জন ঘোষ রায়

Connect with anjan ghosh roy.


মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...