বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

কবিতা - উচ্ছেদ ২০২৩


 ইনকিউবাস, সঙ্গে শুয়ে আছে আদিম প্রেমিকা।

এক ঘর লাল রতিক্রিয়া ছড়িয়ে আছে মেঝেতে

কুড়িয়ে নি, চলো চম্পট দি ,

দেশ কাল ছেড়ে যথারীতি।

যাই হোক,অল্প আলো জ্বলুক!


ঘুম তাড়ানি গানের প্রথম লাইন জানা আছে কারো?

হোক! কানে শুনি বিসর্জনের মন্ত্র পাঠ।


বালিশ দুটো লেপ্টে আছে ভীষন, 

স্বাভাবিক বিভ্রান্তিতে মানুষ ভয় পায়না কখনোই।

দুটো তরতাজা মানুষ চোখ বুজে মেখে মেখে গেলে,

তাকে ইচ্ছেসঙ্গম নাও বলা যেতে পারে।


প্যাথেটিক রং এর কোনো পতাকা নেই কোথাও?

জোড়ালো শব্দের উৎপত্তি তোমার ভিতর,

ওঠানামা ছায়া, ইনকিউবাস।


অন্তর্বাসের ভিতর যে সবেদা গাছ থাকে,তাকে 

ভালোবাসায় কেটে নিলে কেন?

ভালোবাসা গেলে যাকিছু থাকে,তাকে

ঘেন্নার ভয় নামে ডাকে,কিংবা তেতো উচ্ছেদ,


এসো বৃক্ষরোপণ করি ,

জমি দখলের ডাক, প্রেম নাম হোক।

© অঞ্জন ঘোষ রায়।।।

মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩

কবিতা - আমার শাস্তি হোক | Anjan Ghosh Roy

 

কবিতা - আমার শাস্তি হোক!

©অঞ্জন ঘোষ রায়


My Lord,

সিংহাসনে বসে থাকা রাষ্ট্রীয় দানব, শোনো

আমি আমার ক্ষিদের কথা বলতে গিয়ে

অন্যায় করেছি।

শিরচ্ছেদ আমার শাস্তি হোক,

কোনো জঘন্য - ব্রুটাল অপরাধ ছাড়াই।

মেঘের মতন গলে যাওয়া ইচ্ছে নিয়ে

আমার আর্জি - দাবি - অনুরোধ,

 শাস্তি হোক,শাস্তি হোক।


আমার হয়ে বারবার এটা বলবার কেউ নেই,

ওরা সবাই ভীতু,ওরা তোমার থুতু চেটে তেষ্টা মেটায়,

ওরা ভয় পায় মেরুদন্ড সোজা রাখতে।


 শাস্তি হোক আমার

এই উন্মাদ শতাব্দীর শান্তিপূর্ন রাষ্ট্রের

একটা কালজয়ী দৃষ্টান্ত হোক এটা,

যা রাষ্ট্র পারেনি কোনোকালে কোনো নাগরিক কে দিতে 

তেমন শাস্তি আমার জন্য বরাদ্দ হোক।


লাগাতার এই কথা গুলো বলে যেতে যেতে

কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি ,টের পাইনি।


শাসকের শাসানিতে এ আমার ঘুম ভাঙ্গেনি,

শাসকের পোশাকের মানুষ মারা গন্ধে 

আমার বমি আসেনি,

যতক্ষণ না আমাকে কেউ বিপ্লববাদী বলে ডেকেছে,

আমি জাগিনি।

জেগে উঠতেই আমার জিভ সেই একই কথা

বলতে শুরু করে দিয়েছে


হে রাষ্ট্র,নাগরিক

শিরচ্ছেদ আমার শাস্তি হোক,

কোনো জঘন্য - ব্রুটাল অপরাধ ছাড়াই।

মেঘের মতন গলে যাওয়া ইচ্ছে নিয়ে

আমার আর্জি - দাবি - অনুরোধ,

 

শাস্তি হোক,শাস্তি হোক।


©অঞ্জন ঘোষ রায়।

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩

লাজুক প্যাঁচা | অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

 






কবিতা - লাজুক প্যাঁচা 

© অঞ্জন ঘোষ রায়।


বৃত্ত আঁকতে গেলে হাত কেঁপে যায়,

শোরগোল ভর্তি মাথার ভিতর একটা ফাঁকা বেঞ্চ,

এক ইঞ্চি ফুরফুরে জগৎ প্রবেশ করলে

সব চুপ,কেউ ভালো নেই,

পালক নরম বিছানায় ভালোবাসা - ঘুম থাকে না ।


হাওয়া তে নাট্যচর্চা অদৃশ্য মানুষের কাজ,

কোনো কার্নিভাল তেমনই দুর্বল মানুষের নয়।

শব্দের গর্ভপাতে নীরবতা জন্মায়,

আর অন্ধকারে নদীর শব্দে, বিমর্ষতা।


কোনো চাঁদ এর ছায়া রক্তের উপর পড়লে 

নিজেকে আততায়ী ধরে নেওয়া যায়,

হিজিবিজি মন এর টানেল কখনোই 

ফর্সা কেনো হয় না?

ঔপনিবেশিক যন্ত্রনায় কিসের কপিরাইট থাকে মানুষের? উত্তর বেপাত্তা।


উত্তর ডুবে গেছে নির্ঘুম বেডরুমের 

বেলাগাম খোলা থাকা জানলায়।

যেখানে নিজস্ব জঙ্গলের ভিতর দিয়ে 

বাঁশি বাজায় কোনো আত্মসুখ খুঁজতে থাকা

তুলতুলে লাজুক প্যাঁচা।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।




রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

খবরের কাগজ | Khoborer Kagoj | Anan Ghosh Roy Kobita






কবিতা - খবরের কাগজ | © অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৩


খবর ফুরিয়ে গেলে যেটুকু কাগজ বাকি থাকে,

সেখানে কোনো কালি থাকে না।

ফুটপাথ দিয়ে কোনো মানুষ হেঁটে গেলে 

তার চোখ ফুটপাথে বসবাস করে।

ঢেউ কেটে কেটে পাথুরে মেঘ বানানো 

শিল্পীর কাজ নয়,

মন নিজস্ব যুক্তি দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে থেমে গেলে,

স্রোত এর দরকার হয়।

খামোকা কাঁটা চামচ এর নিচে

তরল এর আহ্লাদ জমে থাকে,

প্রয়োজন নেই ,তবুও।

দেশ এ গরীব এর সংখ্যা বৃদ্ধিতে

পতাকা শোভা পায় বোধ হয়।

রাষ্ট্র ল্যাংটো হলে নাগরিক এর দুঃখ বাড়ে,

যে ফুল গাছ এ পাতা কম থাকে তাকে

 চিরকাল অসুস্থ মনে হয়।

© অঞ্জন ঘোষ রায়।

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

অসতী পুরুষত্বের ফ্যান্টাসি

 



অসতী পুরুষত্বের ফ্যান্টাসি

© Anjan Ghosh Roy


মূলত আয়নার সামনে যাকে আমি দেখতে পাই
সে অত্যন্ত স্বচ্ছ সাহসী একজন বদ - লম্পট
দাগী চরিত্রের মানুষ।


যে হাসলে আমি তাকে ঘৃনা করি,
যে প্রেমিক সাজলে আমি তাকে কামুক প্রতিবিম্ব ছাড়া,
আর কোনো কিছুই ভাবতে পারিনা।


সমস্ত কিছু প্রকাশ পেলে তাকে থুতু দিয়ে চলে যেতে পারে
অধিকাংশ তথাকথিত ভদ্দর নোক অথবা মহিলা,
আমার আয়না আমার অসতী পুরুষত্বের
ফ্যান্টাসি বহন করে।


কেউ পাথর ছুঁড়ে মারতে গেলেও,
আমি বাধা দেবো না কখনোই,
কারণ তারা আমার আয়নার চরিত্র কে
হজম করতে অক্ষম ,


এটা ধ্রুব সত্যি দের মতোই ব্যাপক চকচকে।।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

রাজসাক্ষী - একটি কালো বেড়াল | অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

"রাজসাক্ষী - একটি বেড়াল"

©Anjan Ghosh Roy






জেলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো 

একটি কালো বিড়াল, নিঃশব্দে, শয়তান গদ্যের মতন

নখের আঁচড় এ নির্ঘাত শিকার লাল।

রাষ্ট্রের মাথার ভিতর অন্ধকারের জ্বর

আরো জাকিয়ে বসেছে,

কনফারেন্স চালিয়ে কোনো লাভ হয়নি তাতে

উদ্ধার হয়নি কোনো লুকোনো বুক পকেট।

সস্তার মদের নেশায় গাছ গুলো সব রাস্তায় শুয়ে,

পাতা মাড়িয়ে যায় একদল নির্ভীক গরীব কবি,

মেরুদণ্ড কি ভীষণ তীব্র।

কাগজের নৌকা শুকনো রাস্তায় ধুলো গায়ে 

স্তূপ হয়ে আছে,

 লাশ এর ওজন বইতে পারেনি।

ঠাণ্ডা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে দু নম্বরী মাছ,

বিক্রি হবে চড়া দামে,

কেউ জানে না অক্ষর গুলো অশ্লীল হলে 

পৃথিবীর কতখানি ভালো হবে,

নাগরিকের মুখে বোকা রক্ত উঠে যায়,

ফাঁকা স্যালারি তারিখের খামে।।


# Anjan Ghosh Roy

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২

পথভ্রষ্ট জাত - একটি কবিতা

 

স্বপ্নভ্রষ্ট জাত (©Anjan Ghosh Roy)

----------------------------------------

একটা স্বপ্নভ্রষ্ট জাত 

পরিযায়ী হয়ে উধাও হয়ে গেল 

হাড় পাঁজরের নোংরা নগরে।

আমি কি তাকেই মানুষ বলি 

যে নিজস্ব প্রতিবেদন জানে না?


যেখানে শ্যাওলা ধরা রাত নেই,

শান্তি - মায়া ঘুম নেই, 

উদোম - উন্মাদ কাম নেই

চুম্বনরত ঝিনুকের অস্ফুট ছবি

যেখানে অহেতুক বাতেলা মাত্র!

কিংবা ঝাউবনে 

কদর্য শিশির স্নানের শেষে হাওয়া দিলে

 শিউরে ওঠার নগদ বিবরণ পাওয়া যায় না।


সেখানে মানুষ থাকে? কোনো প্রজাতি?

আমাকে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছে

 আমার মোহময় কবিত্বের সত্তা,

কিসের প্রেক্ষাপটে আমি বাঁচার কথা ভাবাই বা ভাবি!


ভিত্তিহীন রদ্দি প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে যায় একরকম।


সমস্ত টা এলোচুলা সামুদ্রিক ঝড় এর মতন,

অভ্যেস এর শুরু - শেষের ভিতর ,

ধ্বংস - সৃষ্টির ভিতর,

বয়ে যাওয়া জীবন এক পরিমাপক ।


স্বপ্ন দেখে তার অনুসরণ এর মধ্যে থাকে

 একরকম হারিয়ে যাওয়া,

বাস্তবিক ভাবে 


স্বপ্ন ভ্রষ্ট জাত এর নির্মেদ বাতুলতা।।


©অঞ্জন ঘোষ রায়

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...