মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫

স্থায়ী ঋতু

 


স্থায়ী ঋতু 

- অঞ্জন ঘোষ রায় 

আমি ধরতব্যের মধ্যেই পড়ি না, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যেহেতু আমি অপরাধ করিনি কোন ও। কিকরে আমি তোর উচ্চতা কে অস্বীকার করি, এত এত মানুষ এর ভিড় এ যে মুখ উজ্জ্বল থাকে সব চেয়ে বেশি, সেটা তুই, অথচ দুর্ভাগ্য বশত আমি কখনোই তোর সামনে দাড়াই নি, যেদিন সামনে যাব, হয়তো এত কথা বলার অবস্থাই থাকবেনা, আমার বাস্তব কে স্বপ্ন ভাবতে ইচ্ছে হবে, আমার মনে হতে পারে এই সবচেয়ে প্রিয় মানবীর সাথে আমার কেনই বা এতকাল পর দেখা হল। তবে দুর্ভাগ্য আবারও , কফিনের পেরেক ঠুকে শব্দ করে আমাকে নিজেকে নিজে জানান দিতে হবে, এই মায়া মানবী হাওয়ায় মিশে যেতে পারে, যদি প্রকাশ করে ফেলি এই আকুতি, এ ভারি অন্যায় আকুতি, এর শাস্তি এটাই, চুপচাপ নিজের প্রেমিক সত্তা কে আড়াল করে দাও, অভিযোজন তত্ত্বের সবচেয়ে নিখুঁত প্রয়োগ করে ফেলতে হবে, আমাকে হয়ে যেতে হবে তীব্রতর বন্ধু, যেমন বন্ধু কখনো পালিয়ে যায়না, কখনো হারিয়ে যায়না, যেমন বন্ধু প্রেমিকের চেয়েও সাংঘাতিক ভাবে থেকে যেতে চায়, যেমন বন্ধু অপরদিকের কান্নার সঙ্গী হয়ে দুঃখ দের ওজন হাল্কা করে নিতে চায়, সত্যি বলতে যেমন বন্ধু পাওয়া যায়না এই মানুষের কর্পোরেট জঙ্গলে।


তুই তাড়িয়ে দিলে সেটা আমার মানবিকতার পরাজয়।


কিভাবে কখন কি হয় কেউ জানেনা, যেভাবে আইজাক এর আগে মানুষ জানত না আপেলের সাথে জমিনের সম্পর্ক, যদি আর কখনো আলাপ ই না হত, কিভাবে জানতাম যে আমি একাই এই উচ্চতায় ব্যাক্তিগত পরিসরে হা হুতাশ করছি ,একাই স্থির হয়ে বসে আছি, আর ভাবছি বিন্দুর মতন একা হয়ে গেলাম হয়তো, কিন্তু নই, তোর উপস্থিতি আমাকে বুঝতে শেখায় আমার গুরুত্ব, আমার অভিনবত্ব, তোর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে যেভাবে ডুবে যাই, সেভাবে আমার মতো সাবমেরিনের গায়ে তোর লেখা দের ও খোদাই হোক, অস্থায়ী ঋতুর ভিতর আমি কি একাই স্থায়ী হতে চাই?


এত বড় অন্যায়? এর জন্য শাস্তি হিসেবে তোর দিক থেকে কথা বলা কমে যায়? আয় , যেটুকু সম্ভব সুখ অসুখের কথা হেসে খেলে বলি...স্বাভাবিক হয়ে যাই।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...