রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫

SelfTalk - প্যাডেল

 

গান,কবিতা , এই দুটো জিনিস নিয়ে বহু বছর কেটে গেল আমার,নিজের মতন করে। কিছুই শিখিনি,কিংবা এভাবেই শিখছি হয়তো। সামাজিক মূল্য বলতে যেটা বোঝায় সেটা পাইনি,নিজের অক্ষমতা হিসেবেই ধরে নেওয়া মঙ্গল।সস্তা কন্টেন্ট বানিয়ে অনেক কিছু পেয়ে যাওয়ার সময় এটা,আমি সেই এক দায়সারা কবিতা আর নিজস্ব শান্ত সহজ গান নিয়ে ,কোনরকম ভাবে টিকে আছি।অদ্ভুত বিষয় এটাই, টিকে আছি।এই যে টিকে থাকা টা,এইযে না থামা টা,এই যে থেমে গিয়েও আবার শুরু করা টা,এইযে হেঁটে যাওয়াটা,কেন করছি????? শুধু নিজের ইচ্ছে বলে?? যদি কবিতা গান এসব না থাকত আমার কাছে দেওয়ার মতন,তখন আমি কি করতাম? কি জানি ..

আমি লেগে রয়েছি।পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী যারা ,প্রশংসা করে,উৎসাহ দ্যায়,ভালো লাগে। জীবন টা হল সাইকেল এর মতন, পড়ে যেতে না চাইলে প্যাডেল করতে হয়,কোথায় যেন শুনেছিলাম, আমি প্যাডেল থামাইনি, এখানে আমি মাধ্যম, ইউনিভার্স ই সব।আগামীতে কি হবে,কোথায় যাব, থামবো না দৌড়াবো,কিছুই জানিনা।সেটাও ইউনিভার্স এর হাতে,আমি কর্মী মাত্র।।

কেউ শুনুক না শুনুক ,গান তো আমি গাইবই,,

কেউ পড়ুক না পড়ুক কবিতাও আমি লিখব।

আমার থেকে সমাজ ঘৃণা বিদ্বেষ হিংসা না পাক, সেসব দেওয়ার অসংখ্য অজস্র মানুষ আছে,আমার থেকে সমাজ না হয় একটু গান পাক ,কবিতা পাক, যা কিছু ভালো আমার,তাই পাক, নিঃস্ব না হলে শিল্পীর মৃত্যু আসে না তো!

আর জন্ম ও সার্থকতা পায় না।।

_ অঞ্জন ঘোষ রায়।

শনিবার, ৭ জুন, ২০২৫

গাছ হত্যা

 

গাছ হত্যা 

এই বিপুল সংকীর্ণতা কোথায় লুকিয়ে রাখবে? 

গা বেয়ে পড়ছে জলীয় হিংসা, 

তোমার চোখ থেকে ঠিকড়ে বেরিয়ে আসছে 

গাছ হত্যার আকাঙ্ক্ষা।

ধুলো দিয়ে ছবি এঁকে অমরত্ব পেতে চেয়ে 

বর্ষা চেয়ে ফেলেছে নাক উঁচু মানুষ।

কাদের ঘুড়ি ওড়ানো যেনো  বানচাল হয়ে গেছে, 

হাওয়া তে দুঃখ মিশেছে বলে।।

© অঞ্জন ঘোষ রায়

বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫

মৃত মিথ


মৃত মিথ

© অঞ্জন ঘোষ রায় 

মৃতমিথ এর সাথে চুক্তি করেছে স্বাধীন যুক্তিবোধ।

যুদ্ধের আগে কেউ কখনো স্বেচ্ছায় রক্তদান করেনা ,

 মগজের ঠিকানার ট্যাগ লাগাই কবরের ঠিক নিচে,

ওরা ফিরে আসবে না বলেই ওদের খোরাক বানায় নগরপিতা,

ঘুরে ফিরে জল মেঘ ইত্যাদি সেজে আবার জলেই ভ্রমণ সেরে নিতে থাকে।

যারা জানি তারা জানি সময়ের খরা মৌসুমে,

কারা ঠিক আপাদমস্তক জলে ডুবে থাকে।।


© অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৩

রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

অন্তর্মুখী

 

অন্তর্মুখী - © অঞ্জন ঘোষ রায়।

একদমই দুশ্চিন্তাহীন একটা মানুষ আমি, নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যাই রোজ, ছোট চারাগাছ দের দেখি সকালে ঘুম থেকে উঠে, ন্যাড়া ছাতিম গাছের ডাল গুলিতে বসে থাকে বিভিন্ন পাখিদের দেখি, পুকুরের মাছ দের হাপুস হুপুস করে শ্বাস নেওয়া দেখি, ডুবে যাওয়া দেখি। ট্রেন এ উঠে মানুষের মুখ দেখি, জানলায় আলো দেখি, সানগ্লাস এ চোখ ঢাকি, কান্না হোক কিংবা রোদ। খুব আলোতে আমার অস্বস্তি হয়, অন্ধকারে আমার শান্তি লাগে, অনেক মানুষ এ আমার দম বন্ধ লাগে, একজন প্রিয় মানুষ এ আমার সুখের মিছিল। কেমন যেন একটা, আপাদ মস্তক ইতি বাচক নাকি নেতি বাচক , বুঝেই ওঠা যায়না। তবে ভিড় এর বাইরের কথা বলতে বলতে উপলব্ধি করা যায় , এখানে এক স্বকীয় আলো তো আছেই, তবুও একটা অন্তর্মুখী মানুষ শৈশব যুবক তো ঘাড় গুঁজেই আছে, চারদিকের এত আলো থেকে পালাচ্ছে আর পালাচ্ছে, যদিও যাহাই আলো তাহাই অন্ধকার,সেকথা সকলেই জানে। কাকে বলি এসব কথা?কাকে বোঝাই আমার দ্বারা কিস্যুই যে হবার নয়, কবিতা লিখেও কবিতা বেচতে জানিনা আমি, গান ভালবেসেও গান গাইতে জানিনা আমি।এই জন্ম আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে আশীর্বাদের মতন করে, কিন্তু পাত্র দ্যায়নি, জাতে ঢেলে আমি খেতে পারি বা খাওয়াতে পারি। আমার এগিয়ে যাওয়া ভালবেসে যেটুকু সম্ভব করে যাওয়া, করেও যাই, কিন্তু নিজের ভিতরে এত ফাঁকা ফাঁপা ফোঁকর আছে, তাদের আমি পূরণ করতে পারিনা। আমি এই ঘাটের ও না, ওই ঘাটের ও না, আমি ওই ছাতিম গাছের উপর এদিক ওদিক তাকাতে থাকা একলা চিল, যার আকাশে দাপট দেখানোর ইচ্ছা থাকলেও, ডানা ছোট থাকার কারনে মেনে নিতে হয়, এভাবেই জীবন কে মিষ্টি করে ভালবেসে নিতে হয়, তবুও নিজের না পারা গুলো নিয়ে লজ্জা হয়, এক ঘরে থাকি , জীবন কে ভালো ও বাসি।

মনে হয় , এই জীবন অতি দ্রুত কেটে যাক এবার,আমার তো আর কিছু ই করার নেই,যা কিছু নিজের আছে তোমার কাছে বরং গচ্ছিত রেখে যাই।।


শনিবার, ১০ মে, ২০২৫

ফারাক

 

ফারাক (2020)

বিস্তর ফারাক আছে তোমার আমার সিমানায়,

এক পা এগিয়ে গেলেই হয় ইস্পার নয় উস্পার।

শহরের ফ্রিজের ভিতর সমস্ত মানুষের হৃৎপিণ্ড

নুন মাখিয়ে রাখা আছে,

আর নিজের টা প্রেমিকার বুকের ভিতর গেড়ে রেখেছি,

বহাল তবিয়ত। যেন বোমা রেখেছি জলের নিচে 

তাজা থাকবে বলে, হাস্যকর।

ভাবছি,

এলোপাথাড়ি ভালবাসার বুলেট জমিয়ে

একটা কুয়াশা ভর্তি প্রাসাদ কিনব

নিজেকে লোকাব সেখানে, কিন্তু ছুঁড়ে দেব 

কিছু প্রকাশ্য প্রশ্ন

যার উত্তর দিতে দিতে রাত নেমে যাবে,

জঙ্গল থেকে লোকালয়ে পৌঁছে যাবে 

সন্ত্রাস এর নেকড়ে ।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।


ছবি - পিন্টারেস্ট


-অঞ্জন ঘোষ রায়

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

চ্যাটবক্স

 

চ্যাট বক্স 

অঞ্জন ঘোষ রায় 

চ্যাটবক্স এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম 
যতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম ট্রেইন এর ভিতর স্থির ভাবে,
 সমস্ত ফিরতি মানুষ দের মাঝখানে 
একটা বেবোধ গ্রহের মতন । 
চ্যাটবক্স জ্বলছে , সেখানে শব্দ নেই, 
তারিখ ছাড়া ক্যালেন্ডার এর দিকে 
তাকিয়ে আছি যেন, কোনোভাবেই খুঁজে পাচ্ছিনা 
পূর্ণিমা অমাবস্যা ছুটির দিন গুলো কবে, 
শুধু তাকিয়ে আছি। স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে,
গাছ গুলো অন্ধকারে দৌড়ে যাচ্ছে,
আমি ঠাঁয় দাড়িয়ে আছি ,
রোদ নেই,নোনাজল আছে, দাড়িয়ে আছি চোখ গুঁজে।
সাবধানে যেতে যেতে অসাবধানে পা পিছলে যায় না
কেনো? চোখ ধাঁধিয়ে গেলে দৃষ্টি মরে যায় না কেন?
আমি তাকিয়ে আছি বিবশ হয়ে, বেবোধ গ্রহের মতন,
তোমাদের কি হাসির খোরাক হয়ে উঠছি আমি??
কবিতা লিখছি বলে!

© অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৫ ,২৫ এপ্রিল

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

অথচ

 

ছবি - পিন্টারেস্ট

 "অথচ"--- (রচনাকাল ২০১৮)


তুমি যত বার মেটাফর মিশিয়ে দিচ্ছ

আমার ধৈর্য হারিয়ে যাচ্ছে,

আরো শীঘ্রই আমি অন্ধকারে ঢুকে যাচ্ছি।

এখানে শ্বেত কাঞ্চন এর কোনো গন্ধ নেই,

আমার জীবন এর মতই,কিন্তু উজ্জ্বল।

কত চমকপ্রদ উপস্থাপন,তবু মন খারাপ হয়,

হঠাৎ মৃত্যু তো জন্ম শব্দের সমানুপাতিক!

একটা মৃত্যু নতুন জন্মের খোঁজ দিয়ে চলে যায়।

যে পিরামিডের ভিতর দিয়ে একটা সরুপথ হেঁটে যায়,তুমিও থাকো হতে পারে ছায়া সেজে,

আমি বুঝি ছায়া নয়।

তাকে তো আমি ভুলিনি,

কাঠগোলাপের রং তার সারাদেহে ত্বকে,যে করুণ সংলাপে গোটা মনন ঢেকে গেছিলো কোনো একদিন, 

তা কখনোই ভুলে যাবার জন্যে নয়।

কুড়ি ঝরে যায় নি,শুধু তুমি আমাকে

আড়ালে আড়ালে আড়ালে কবিতা পাঠ শিখিয়েছ।

আমি এখন অন্ধকার গলিতে মশাল নিভিয়ে হেঁটে বেড়াই,

সারা টা রাত গলিপথ শেষে মুক্তির অপেক্ষায়

তুমি দাড়িয়ে থেকো,

তখন যেনো এই ছায়ার অভিনয়

 বেঁচে না থাকে, মাথায় রেখো ।।

-  Anjan Ghosh Roy

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...