বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

ওয়েদার - একটি গদ্য


ওয়েদার - একটি গদ্য

অঞ্জন ঘোষ রায়



যেভাবে তাকিয়ে আছি একভাবে আয়নার দিকে,ভেবেছিলাম ফেটে যাবে।

নিজের উপর রাগ হতে হতে কখন যেন করুণার পাত্র বানিয়ে ফেললাম নিজেকে,

নিজের থুতনি ধরে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়া করলাম,একটা কষানো থাপ্পড় মেরে চোখে চোখ রাখলাম।

আমি কাঁদছি,চোখ থেকে জল নেমে যাওয়াটা আগে বন্ধ করতে হবে,আমি আমাকেই বললাম ,ব্যক্তিগত দিকে তুমি কারো নও,কেউ তো তোমাকে ভালোবাসবে বলে বসে নেই,

এটা বুঝতে  হবে,  ভালোবাসো বলেই যে বারবার তা বলে যেতে হবে,বলে বোঝাতে হবে,কেন এই ছেলেমানুষী! আমি বুঝি তোমার সততা,তোমার উপলব্ধির স্তোত্র,তোমার ভিন্নধর্মী মিছিলের স্লোগান ,সব বুঝি,তবু  ,এমন তো কোনো দায়বদ্ধতা নেই ,নিজেকে শাসন করো ,আমি তাই জন্য তোমাকে দেওয়ালে ঠেসে ধরতে বাধ্য হলাম । তুমি জানো কার থেকে দূরে চলে যাচ্ছ ? যে তোমাকে একটা মুক্ত মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কবিতা পাঠ এর মতন করে পছন্দ করে,যে তোমার ভিতর এর মানুষ এর উচ্চতার সাথে তাল মেলাতে পারে,

যে এতকিছু জানে , তুমি তার থেকে সরে যাচ্ছ শুধু ভালোবাসো বলে? ভালোবাসো,, কিন্তু, যেভাবে কবিতাকে বেসেছ,,,টের পেয়েছে কেউ? কবিতা জানে, যে শুদ্ধতা আছে,যাকে আগলে রাখতে হয়,লালন করতে হয়,তোমায় আর নতুন করে এসব বোঝাতে ভালো লাগে না আর।

এসব ভাবতে ভাবতেই ওয়েদার ফরকাস্ট এর ম্যাসেজ ,নোটিফিকেশন শব্দ,স্ক্রিন জ্বলে ওঠা, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত , ঝড়ো হাওয়া।এই বৈশাখের সাদা রোদের তাপ থেকে নিষ্কৃতি পেতে কে না চায়! ঘেমে গেছি, 

আয়না এখনো ফেটে যায় নি,নিজেকে দেখতেও পাচ্ছি দিব্যি, ঘর টা গুমোট হয়ে রয়েছে,দুটো জানলা দরজা সমস্ত বন্ধ করে রেখে বসে আছি সারা দুপুর। হাত বাড়িয়ে চেয়ার থেকে প্যান্ট টা নিয়ে দু পা গলিয়ে উঠে দাড়িয়ে জানলা টা খুলে দেখলাম,

বুঝলাম আয়না না ভাঙার কারণ টা কি।

আমি অন্য মানুষ হয়ে গেছি,যেটা অনেকটা নদীর শব্দের মতন,অনেকটা হালকা,অনেকটা কাছে কাছে থাকা অদৃশ্য ছায়ার মতন। শান্ত চোখ,আঙুলে হাতে কন্ঠে ধীরতা। ঘর টা একটু আলো পেয়েছে,বন্ধ হাওয়া ঘুরপাক খেতে খেতে ভারী হয়ে উঠেছে,যাক,বাইরে যাক,উড়ুক। অনিচ্ছাকৃত কোনো খাঁচা বানানো তো আমার উদ্দেশ্য নয়,আমি ও তো আকাশের উদারতার কথা বলি,তোকে ছুঁয়ে উদারপন্থী দের মন্ত্র পাঠ করি। আমি ক্ষমা চেয়ে নিতে পারি ভীষন সহজেই,তুই তো জানিস সবই,ক্ষমা করে দে,হাত ধরে দেখ ঠান্ডা হয়ে আছি,যেভাবে তুই স্নান করে এলি এক্ষুনি। ঠাণ্ডা থাই এর কাছে আমাকে জমিয়ে রাখবি কখনো? একবার রাখিস। ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাঁড়াচ্ছি না যে সরে দাড়াবি,এ কোনো দাবি নয়,আবদার এর একশেষ। 

ছাদ এর একদম ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভিজিয়ে দেবার ইচ্ছা থাকলে ও হয়ে উঠলো না,কিন্তু বৃষ্টিতে তো ভিজতে হবেই। ঝড় মেঘ ,বিশাল চাপ চাপ মেঘের ভার,ওদিকে সশব্দ বাজ পড়তে থাকা,তুমুল বৃষ্টি,সে এক তুলকালাম কান্ড।তোকে হেঁটে যেতে হলো শাওয়ার এর নীচে। বাইরে মেঘ,ভিতরে বৃষ্টি, মাঝখানে কোনো দেওয়াল নেই,ধরে নেওয়া যাক কোনো ছাদ নেই, তুই একভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মন খারাপ কে ধুয়ে ফেলছিস,কিংবা চিন্তা।

অদৃশ্য ছায়ার মতো ছাদের এক কোণে বসে বসে আমি ভিজছি,তুই দেখতে পেলে ডাকতি আমি জানি,ভিজতে দিতি না, দোতলার বারান্দায় অথবা শাওয়ার এর নীচে দাড়িয়ে দুজন সিগারেট টেনে নিতেই পারতাম,কিন্তু নাহ,, তোর অন্যমনস্ক চোখের কাছে ঝড় বৃষ্টি কেও যেন কম রহস্যের লাগে, বরং সেটাই দেখে বাড়ি ফিরে আয়না ভেঙে ফেলি,আর নিজের মাথায় চাটি মেরে বলি, মানুষ হারানো পাপ যদি মানুষ মানুষই হয়। মেঘ টেগ কেটে গিয়ে হালকা রঙের রোদ উঠেছে বেশ.…..


© অঞ্জন ঘোষ রায়

১৭ই এপ্রিল,২০২৫


৪টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর গুছানো অগোছালো একটা জগতের গল্প।
    Sincerely ভালো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
  2. সাধারণের মাঝে ভিন্নধারার একটি নির্মাণ

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. ঠিক তাই।চেষ্টা সেটাই ছিল।।।ধন্যবাদ পড়বার জন্য বন্ধু

      মুছুন

মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

  আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...