সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

রাত , কালো ও আমি


ছবি - পিন্টারেস্ট

রাত , কালো,আর আমি" 

(রচনাকাল ২০১৮)


দিন হয় হয়তো!কি জানি,আমার ঘরে তো হয় না।

আমার সারা ঘরে সোঁদা অন্ধকার,হিম পড়ে সারারাত,

জোনাকি দের আত্মারা বৈঠক করে,

আমি অন্ধকারেই বই পড়ি ।

আঙুল ধরি ছায়াপথ এর,বিশ্রাম নিতে উদ্যত হই ,

অদ্ভুত বিশ্রাম,, যার সারমর্ম মানুষ খুঁজে বেড়ায় চিরকাল..

একটা ফিলামেন্ট কাটা বাল্ব ঝুলে থাকে আকাশ থেকে সারাক্ষণ,

আমি তো জন্ম থেকে একেই সূর্য ভাবি।

খুব শীত এলে আগুন পোহাই,,শীত শীত আগুন,নিভু নিভু তাপ।

গতপরশু এই অন্ধকার এর দেওয়াল বেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলাম কোথাও একটা,

বিস্তর নির্জন এলাকায় কে যেন ধুপ জ্বালিয়ে গেছে,

আর তার থেকে লিকলিকে রোগা ধোঁয়া এঁকেবেঁকে উঠছে ,

তার গতিপথ আমি ঠাহর করতে পারিনি,

শুধু শুকনো মুখ নিয়ে পায়ের ছাপ চিনে চিনে 

বাড়ি ফিরে এসেছি ,নিজের ঘরে,

কয়েদি সেজে আবার নিজেরই 

কাগুজে জেলখানায়।।


©অঞ্জন ঘোষ রায়। 

২০১৮

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

ওয়েদার - একটি গদ্য


ওয়েদার - একটি গদ্য

অঞ্জন ঘোষ রায়



যেভাবে তাকিয়ে আছি একভাবে আয়নার দিকে,ভেবেছিলাম ফেটে যাবে।

নিজের উপর রাগ হতে হতে কখন যেন করুণার পাত্র বানিয়ে ফেললাম নিজেকে,

নিজের থুতনি ধরে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়া করলাম,একটা কষানো থাপ্পড় মেরে চোখে চোখ রাখলাম।

আমি কাঁদছি,চোখ থেকে জল নেমে যাওয়াটা আগে বন্ধ করতে হবে,আমি আমাকেই বললাম ,ব্যক্তিগত দিকে তুমি কারো নও,কেউ তো তোমাকে ভালোবাসবে বলে বসে নেই,

এটা বুঝতে  হবে,  ভালোবাসো বলেই যে বারবার তা বলে যেতে হবে,বলে বোঝাতে হবে,কেন এই ছেলেমানুষী! আমি বুঝি তোমার সততা,তোমার উপলব্ধির স্তোত্র,তোমার ভিন্নধর্মী মিছিলের স্লোগান ,সব বুঝি,তবু  ,এমন তো কোনো দায়বদ্ধতা নেই ,নিজেকে শাসন করো ,আমি তাই জন্য তোমাকে দেওয়ালে ঠেসে ধরতে বাধ্য হলাম । তুমি জানো কার থেকে দূরে চলে যাচ্ছ ? যে তোমাকে একটা মুক্ত মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কবিতা পাঠ এর মতন করে পছন্দ করে,যে তোমার ভিতর এর মানুষ এর উচ্চতার সাথে তাল মেলাতে পারে,

যে এতকিছু জানে , তুমি তার থেকে সরে যাচ্ছ শুধু ভালোবাসো বলে? ভালোবাসো,, কিন্তু, যেভাবে কবিতাকে বেসেছ,,,টের পেয়েছে কেউ? কবিতা জানে, যে শুদ্ধতা আছে,যাকে আগলে রাখতে হয়,লালন করতে হয়,তোমায় আর নতুন করে এসব বোঝাতে ভালো লাগে না আর।

এসব ভাবতে ভাবতেই ওয়েদার ফরকাস্ট এর ম্যাসেজ ,নোটিফিকেশন শব্দ,স্ক্রিন জ্বলে ওঠা, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত , ঝড়ো হাওয়া।এই বৈশাখের সাদা রোদের তাপ থেকে নিষ্কৃতি পেতে কে না চায়! ঘেমে গেছি, 

আয়না এখনো ফেটে যায় নি,নিজেকে দেখতেও পাচ্ছি দিব্যি, ঘর টা গুমোট হয়ে রয়েছে,দুটো জানলা দরজা সমস্ত বন্ধ করে রেখে বসে আছি সারা দুপুর। হাত বাড়িয়ে চেয়ার থেকে প্যান্ট টা নিয়ে দু পা গলিয়ে উঠে দাড়িয়ে জানলা টা খুলে দেখলাম,

বুঝলাম আয়না না ভাঙার কারণ টা কি।

আমি অন্য মানুষ হয়ে গেছি,যেটা অনেকটা নদীর শব্দের মতন,অনেকটা হালকা,অনেকটা কাছে কাছে থাকা অদৃশ্য ছায়ার মতন। শান্ত চোখ,আঙুলে হাতে কন্ঠে ধীরতা। ঘর টা একটু আলো পেয়েছে,বন্ধ হাওয়া ঘুরপাক খেতে খেতে ভারী হয়ে উঠেছে,যাক,বাইরে যাক,উড়ুক। অনিচ্ছাকৃত কোনো খাঁচা বানানো তো আমার উদ্দেশ্য নয়,আমি ও তো আকাশের উদারতার কথা বলি,তোকে ছুঁয়ে উদারপন্থী দের মন্ত্র পাঠ করি। আমি ক্ষমা চেয়ে নিতে পারি ভীষন সহজেই,তুই তো জানিস সবই,ক্ষমা করে দে,হাত ধরে দেখ ঠান্ডা হয়ে আছি,যেভাবে তুই স্নান করে এলি এক্ষুনি। ঠাণ্ডা থাই এর কাছে আমাকে জমিয়ে রাখবি কখনো? একবার রাখিস। ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাঁড়াচ্ছি না যে সরে দাড়াবি,এ কোনো দাবি নয়,আবদার এর একশেষ। 

ছাদ এর একদম ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভিজিয়ে দেবার ইচ্ছা থাকলে ও হয়ে উঠলো না,কিন্তু বৃষ্টিতে তো ভিজতে হবেই। ঝড় মেঘ ,বিশাল চাপ চাপ মেঘের ভার,ওদিকে সশব্দ বাজ পড়তে থাকা,তুমুল বৃষ্টি,সে এক তুলকালাম কান্ড।তোকে হেঁটে যেতে হলো শাওয়ার এর নীচে। বাইরে মেঘ,ভিতরে বৃষ্টি, মাঝখানে কোনো দেওয়াল নেই,ধরে নেওয়া যাক কোনো ছাদ নেই, তুই একভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মন খারাপ কে ধুয়ে ফেলছিস,কিংবা চিন্তা।

অদৃশ্য ছায়ার মতো ছাদের এক কোণে বসে বসে আমি ভিজছি,তুই দেখতে পেলে ডাকতি আমি জানি,ভিজতে দিতি না, দোতলার বারান্দায় অথবা শাওয়ার এর নীচে দাড়িয়ে দুজন সিগারেট টেনে নিতেই পারতাম,কিন্তু নাহ,, তোর অন্যমনস্ক চোখের কাছে ঝড় বৃষ্টি কেও যেন কম রহস্যের লাগে, বরং সেটাই দেখে বাড়ি ফিরে আয়না ভেঙে ফেলি,আর নিজের মাথায় চাটি মেরে বলি, মানুষ হারানো পাপ যদি মানুষ মানুষই হয়। মেঘ টেগ কেটে গিয়ে হালকা রঙের রোদ উঠেছে বেশ.…..


© অঞ্জন ঘোষ রায়

১৭ই এপ্রিল,২০২৫


মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫

স্থায়ী ঋতু

 


স্থায়ী ঋতু 

- অঞ্জন ঘোষ রায় 

আমি ধরতব্যের মধ্যেই পড়ি না, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যেহেতু আমি অপরাধ করিনি কোন ও। কিকরে আমি তোর উচ্চতা কে অস্বীকার করি, এত এত মানুষ এর ভিড় এ যে মুখ উজ্জ্বল থাকে সব চেয়ে বেশি, সেটা তুই, অথচ দুর্ভাগ্য বশত আমি কখনোই তোর সামনে দাড়াই নি, যেদিন সামনে যাব, হয়তো এত কথা বলার অবস্থাই থাকবেনা, আমার বাস্তব কে স্বপ্ন ভাবতে ইচ্ছে হবে, আমার মনে হতে পারে এই সবচেয়ে প্রিয় মানবীর সাথে আমার কেনই বা এতকাল পর দেখা হল। তবে দুর্ভাগ্য আবারও , কফিনের পেরেক ঠুকে শব্দ করে আমাকে নিজেকে নিজে জানান দিতে হবে, এই মায়া মানবী হাওয়ায় মিশে যেতে পারে, যদি প্রকাশ করে ফেলি এই আকুতি, এ ভারি অন্যায় আকুতি, এর শাস্তি এটাই, চুপচাপ নিজের প্রেমিক সত্তা কে আড়াল করে দাও, অভিযোজন তত্ত্বের সবচেয়ে নিখুঁত প্রয়োগ করে ফেলতে হবে, আমাকে হয়ে যেতে হবে তীব্রতর বন্ধু, যেমন বন্ধু কখনো পালিয়ে যায়না, কখনো হারিয়ে যায়না, যেমন বন্ধু প্রেমিকের চেয়েও সাংঘাতিক ভাবে থেকে যেতে চায়, যেমন বন্ধু অপরদিকের কান্নার সঙ্গী হয়ে দুঃখ দের ওজন হাল্কা করে নিতে চায়, সত্যি বলতে যেমন বন্ধু পাওয়া যায়না এই মানুষের কর্পোরেট জঙ্গলে।


তুই তাড়িয়ে দিলে সেটা আমার মানবিকতার পরাজয়।


কিভাবে কখন কি হয় কেউ জানেনা, যেভাবে আইজাক এর আগে মানুষ জানত না আপেলের সাথে জমিনের সম্পর্ক, যদি আর কখনো আলাপ ই না হত, কিভাবে জানতাম যে আমি একাই এই উচ্চতায় ব্যাক্তিগত পরিসরে হা হুতাশ করছি ,একাই স্থির হয়ে বসে আছি, আর ভাবছি বিন্দুর মতন একা হয়ে গেলাম হয়তো, কিন্তু নই, তোর উপস্থিতি আমাকে বুঝতে শেখায় আমার গুরুত্ব, আমার অভিনবত্ব, তোর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে যেভাবে ডুবে যাই, সেভাবে আমার মতো সাবমেরিনের গায়ে তোর লেখা দের ও খোদাই হোক, অস্থায়ী ঋতুর ভিতর আমি কি একাই স্থায়ী হতে চাই?


এত বড় অন্যায়? এর জন্য শাস্তি হিসেবে তোর দিক থেকে কথা বলা কমে যায়? আয় , যেটুকু সম্ভব সুখ অসুখের কথা হেসে খেলে বলি...স্বাভাবিক হয়ে যাই।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

দুই বঙ্গ , আন্দোলন, রাষ্ট্র এবং মানুষের মৃত্যু


তুমি কে আমি কে
, রাজাকার রাজাকার 

কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার

আমি অঞ্জন ঘোষ রায়, স্যালুট জানাই তোমাদের , বাংলাদেশের সকল আন্দোলনকারী ছাত্র দের, তাদের পাশে থাকা পরিবার কে, মানুষ কে, যুব সমাজকেনিজের অধিকার এর কথা বলতে গেলে তুমি রাষ্ট্রের কাছে দেশদ্রোহী ? এই রাজ্যে সারের দাম কেন বেরেছে জানতে চাওয়া তে কৃষককে পেতে হয়েছিল মাওবাদী তকমাকিছু ভুলিনি আমরা,

 আমরা কারা? যারা নাগরিক, সাধারন মানুষ, যারা আমাদের মৌলিক অধিকারের জন্য কথা বলছি

যেটুকু কথা বলব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলব এখানে, মানুষের পক্ষে মানুষের জন্যে বলব, এটা মাথায় রেখেই শুরু করলাম  অনেকেই ভাবছেন এই রাজ্যের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ,যে বাংলা দেশে যা হচ্ছে ,হোকএতে আমার কি! আমি তো দিব্যি আছি,অত মাথা ঘামানোর দরকার নেই,

সরি , কোথাও ভুল হচ্ছে...আপনি কোথাও যেন মৃতইআপনি মানুষ তো? যদি উত্তর হ্যা হয়,এই আন্দোলন আপনার ও,এটা কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয় ,এটা কোনো সক্রিয় দলীয় রাজনীতির পক্ষ থেকে কর্মসূচি নয়এই আন্দোলন এ আপনার ই দাবি ই তো আছে,সেটা পশ্চিমবঙ্গ হোক বাংলাদেশ হোক,এটা যেকোনো রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের অধিকারের দাবী

মানুষের পাশে মানুষ সহযোদ্ধা হয়ে সহমর্মী হয়ে থাকবে না? মানুষ মানুষের জন্য,আবার মানুষ ই মানুষ কে হত্যা করে, শুধু কোটা আন্দোলন এর বিষয় নয়, বিষয় হল মেরুদণ্ড , সাহস, একতা, বিপ্লব বধ,নিজের অধিকার নিজের পাওনার কথা বলতে গিয়ে শাসক পুলিশ নামক কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নাগরিক নিধনে নেমেছে,আর লাশ এর পর লাশ কবর দেওয়া হচ্ছে, সেই লাশের উপর কি হাসিনা ঘোমটা টেনে নিদ্রা যাবেন ? ভাবুন এই স্বৈরাচার রাষ্ট্র যদি আপনার হয়! কি ভাবছেন আপনার রাষ্ট্র এমন নয়? ভেবে দেখুন,সম্ভাবনার দেওয়ালে কান পাতুন,এটা আরও ভয়ঙ্কর

আপনি নিজেকে জাগান, বাংলাদেশের মানুষের দের এই আন্দোলনকারীদের দেখুন,ভাবুন,আমাদের রাজ্যের তুমুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন আন্দোলন সম্ভব কি? আন্দোলন ছাত্র থেকেই শুরু হয় প্রভাবশালী ভাবেই, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা মনে আছে? এরা মাথা নোয়াতে জানেনা, এরা সেই বয়সের কাছে ঘোরাফেরা করছে, এদের শক্তি রাষ্ট্র কে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম, ছাত্র আন্দোলন সবচেয়ে শক্তিশালী বেপরোয়া নির্ভিক আন্দোলন ।।।❤️

এত এত ছাত্রের মৃত্যু ,পুলিশের বেধড়ক গুলি করে ছাত্র হত্যা, রাজনৈতিক দলের অত্যাচার , আপনাকে যদি মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব না করে ,আপনি তখন ও যদি এদেশ ওদেশ বিচার করেন,আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন,আপনার পারিবারিক শিক্ষা ,আপনার অস্তিত্ব তে প্রশ্ন ওঠেইনিজের যেটুকু সম্ভব সেটুকু আওয়াজ দিন,রাস্তায় নাম্লে নামুন,লিখতে পারলে লিখুন, গান গাইতে পারলে গান গেয়ে এই বিপ্লব এর পাশে থাকুনআপনার দ্বারা বিপ্লব চেতনা অন্তত দুজনের কাছে হলেও সম্প্রচারিত হোকজেগে উঠুন, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।। মানব ধর্ম সোচ্চার হোক,মানুষ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করুক,রাষ্ট্র ভয় পাক।। রাষ্ট্র মানুষের ঊর্ধ্বে নয়।।।।।

 

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শেখা উচিত, দেখা উছিত,শাসকের চোখে চোখ রেখে বুক ঠুকে লড়াই কাকে বলে,এই রাজ্যের শুধু নয়, যেকোনো শাসক যদি নাগরিকের মাথায় উঠে নাগরিকের চোখ মুখ বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করে, বমি করে দাও রাষ্ট্রের মুখে, আগুন জ্বালিয়ে দাও এমন শাসকের বালিশে, যাতে ঘুমোতে না পারেদিনের পর দিন সমস্ত কিছুর মূল্যবৃদ্ধি ,বেকারত্ব, সরকারি স্কুল স্বাস্থকেন্দ্র হাসপাতাল গুলোর অবস্থান,মাথা থেকে পা অব্ধি আপনি যেখানেই তাকাবেন দেখবেন আপনি ডুবে যাচ্ছেন , রাষ্ট্র আপনাকে পুতুল বানিয়ে দিচ্ছে, আমি মনে করিয়ে দিতে চাই আপনি মানুষ, হুশ ফিরুক আপনার, প্রতিবাদ করুন, আর চুপ নয়



অস্বস্তিকর একটা রাত ছিল কাল, আমি জানি এই রাজ্যের অনেকেই এই অস্বস্তি টের পেয়েছে
গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ইহুদিকে হত্যা করার ঘটনা ঘটিয়ে ছিল হিটলার পোল্যান্ডের মাটিতেসেই মানুষ গুলোর অসহায়তার খানিক অসহায়তা পাশের দেশের মানুষ গুলো পাচ্ছে, নেট বন্ধ করে দেওয়ার পর এখনো অব্ধি তাই, আজ ১৯ জুলাই,২০২৪ ,আমি ব্যক্তিগত ভাবে অত্যন্ত মর্মাহত এবং বিক্ষুব্ধযোগাযোগের কোনো মাধ্যম নেই, নেটওয়ার্ক বন্ধ,কোথায় কি হচ্ছে ,কিভাবে হচ্ছে,কে কাকে হত্যা করছে,কোনো কিছু প্রকাশিত হচ্ছে না, জানতে পারছে না পৃথিবী , যথেচ্ছ ভাবে নৃশংসতা চলতে পারে, একের পর এক আরও হত্যা করে আন্দোলন কে থামানোর চেষ্টা চলতে পারেপ্রবাসী বাংলাদেশী মানুষ তাদের পরিবারের সাথে বন্ধু পরিজনদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারছেন নাএই অসহায়তা দুশ্চিন্তা ঘুম কেড়ে নিয়েছে প্রত্যেকের, এই তীব্র অশান্ত সময় এর জন্য দায়ী রাষ্ট্র এত খারাপ সময় আর না আসুক , কিন্তু পৃথিবীতে এত খারাপ সময় বিক্ষিপ্ত ভাবে আসতেই থাকবে,মরতেই থাকবে মানুষ।।
কখনো নিজের দেশে কখনো পাশের দেশে কখনো দূরের দেশে।।
বাংলাদেশে
এই গণকবর এর উপর শুয়ে থাকবে
ঘোমটা টেনে রাষ্ট্রের বড় মাথা ...
তবে এভাবে বুলেট পুড়ে দেওয়া যায় নাগরিকের বুকে ন্যায়ের দাবীতে দুহাত তোলায়!

রাষ্ট্রের রক্তের রং কি পিচ এর মতই কালো?


@ অঞ্জন ঘোষ রায় / কলকাতা

 

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

অঞ্জন ঘোষ রায়ের কবিতা - "তোমার কোল "



খনো নালিশ করিনি বলে 

অভিযোগের ওজন কমে গেছে? তা হয় না।

বোকা হদ্দ হয়ে যেতে হয় মাঝে মাঝে,

এটা মানানসই,

তুমি কার সাথে হেঁটে এলে,আমার অজানা নয়,

আমার আশ্রয় কেড়ে নিল কেন কেউ! 

হওয়ার ই ছিল।

বাসায় খড় কুটো বড় কম,আলো ঢোকে না,

যদিও চোখ বুজলে এখানে অন্ধকার এর অভাব


এত রোদ এর মধ্যে হেঁটে হেঁটে হাঁফিয়ে গেছি ,

কেউ বলছে না একটু জিরিয়ে নাও,একটু জল খাও,

আমার নালিশ নেই,অভিমান নেই,ক্ষোভ নেই

জমাট দুঃখ আছে,আমি তাদের জল দি রোজ,

আর অপেক্ষা করি ,

তুমি কবে ডাকবে?

একটু মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে,

"কেনো আমাকে ভালবেসে তুমি বোকা হয়ে গেলে"

আমি কোলে সিধিয়ে যাবো,কেঁদে নেবো 

যেভাবে বাঁধ ভেঙে গেলে গ্রামে জল ঢুকে 

ভাসিয়ে নিয়ে যায় সমস্ত কিছু।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।

বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাদা ট্যাক্সি - সহজ গদ্য | অঞ্জন ঘোষ রায়


 ওকে ভালবাসি,ওকে অন্য কেউ জড়িয়ে ধরে রেখেছে,অধিকার করে নিয়েছে ওর উপর, ও আমার বিবাহিত স্ত্রী নয়, ও আমার প্রেমিকার ঊর্ধ্বে কেউ,তার চেয়েও বেশি ,,বোঝাতে পারিনা কেনো?অন্য একজন এর আঙ্গুল ওকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

ট্যাক্সি চড়ে বসলাম , বাস এর ভিড় ভালো লাগছে না, ধাক্কা ধাক্কি করতে আজ আর ভালো লাগছে না।আমার দৈনন্দিন বাস,ট্রেনের ভিড় সবসময় ভালো লাগেনা,নেওয়া যায়না,আজকে একটু হিসেবের বাইরে টাকা না হয় বেশীই খসুক,কিন্তু বাস এ উঠতে মন চাইলনা,সাদা একটা ট্যাক্সি তে চড়ে বসলাম। ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছি,শিক্ষাগত যোগ্যতা যেটুকু আছে,শুধু তাই দিয়ে চাকরি হয়না,চাকরির যে খুব ইচ্ছে সেটাও তো আমার নেই,কিন্তু দরকার,বাঁচার জন্য ,পেটের জন্য দরকার।। যেসব কবিতা লিখে রেখে দিয়েছি, গান লিখে ফেলে রেখেছি,তাদের জন্য দরকার। মুখোশ পড়া মানুষ দের থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দরকার,আর্থিক ভাবে দুর্বল আরো হয়ে গেলে, খিল্লির পরিমাণ বেড়ে যাবে,এটা এই শতকের সত্য,সেটার বিরুদ্ধে একটু দাঁড়ানো দরকার।।মানুষ কে তার নিজের বিরুদ্ধে করতে হয় কত কিই না কাজ! তবু পকেট এর টানাটানি তে ও ট্যাক্সি চড়তে বসলাম,সাহস করে উঠলাম,ক্ষিদে পেয়েছে বড্ড।খাবো ক্ষণ, পরে,দেখা যাবে,ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে কেউ,ওর উরু তে হাত দিয়ে বলছে ,দারুন।ভাবনা সরিয়ে বললাম,নিয়ে চলো যেদিক খুশি,এদিক ওদিক ঘুরিয়ে যেতে থাকো শুধু।ভালো লাগছে না কিছু,কাউকে ভালোবাসলাম যতবার ততবার শুধু দীর্ঘশ্বাস নেমে এলো।তাকে ছুঁয়ে ফেলছে একটা লোক,যে অনেক টা সামাজিক ভাবে পোক্ত আমার তুলনায়,তুমি ভালোবাসলে না বলেই কি এত জমাট দুঃখ? কই? ভালো তো তুমিও বাসো! উপায় নেই বলো! দুঃখ জমলে বৃষ্টি আসে, ঝড় টা চাপা থাকে। ট্যাক্সি ড্রাইভার চালিয়ে দিল ঝাকানাকা একটা গান,সে কি করে বুঝবে আমার অসুখ! আমি ঝাঁপ দেবো জানলা দিয়ে?কিংবা রানিং ট্যাক্সি থেকে দরজা খুলে দুম করে নেমে যাব? গড়িয়ে গড়িয়ে উল্টে ছেঁচড়ে পড়ে যাবো রাস্তার মাঝ খানে,একটা বিশাল বাস এসে মাথার উপর দিয়ে চলে যাবে,মুখ চেনা যাবে না,আমার আসন্ন কবিতার বই এর সবকটা কপি বিক্রি হয়ে যাবে? তুমি তারপর আরো ভালোবাসবে? কাঁদবে কি? সে যা পারো করো,ট্যাক্সি ড্রাইভার এর ঝাকানাকা গান আমার মন কে দূষিত করে দিলো যেনো আরো।।কি করি এবার? বন্ধ করতে বলবো? কিভাবে সে বুঝবে আমি কিভাবে নিজের ভিতর খুন হচ্ছি নিজেই! রেহাই দাও আমায়,গুলি করে দাও আমায়,বলতে পারিনি। জানলা দিয়ে দেখতে থেকে গেছি বাস এর চাকা গুলো অনেক বেশি যেন বড়।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

মায়ামানুষ _ অঞ্জন ঘোষ রায়

 

                      

      মায়া মানুষ

    কিছু মায়ামানুষের চোখ

    যাবতীয় জাগতিক বোধ অবশ করে দ্যায়।
    পৃথিবীতে এর আগে আজ অবধি যত গুলি
    চোখের কবিতা লেখা হয়েছে,সেসব কে
    বিশাল খাটো লাগে,
    বিপন্ন লাগে,বিমর্ষ লাগে।

    দৃষ্টি যতদূর যায় ,
    শাল গাছ টপকে,বন বাদার পেরিয়ে,
    ১১২ বছর এর বৃদ্ধ বট এর ছায়া এড়িয়ে,
    যে কোনো বিন্দুতে ,যদি তাকে মনে করা যায়!
    এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ তেজস্ক্রিয়তা ডানা ঝটফট করে
    হাজির হয়, ডাকাবুকো বর্ষার মেঘের মতন।

    তার সাথে অদৃশ্য ভাষায় কথা বলে
    পাওয়া যায়,শৈল্পিক নির্যাস।
    সূর্য ডুবে গেলে জঙ্গলে আগুন জ্বালায় কারা?
    তার চেয়েও বেশি আলো থাকে,
    বনেদী জ্যোৎস্নায়,
    তার করুণ কলমীলতা দৃষ্টিতে।।
    তবে,

    অনেক টা নিচুস্তর এ আমি থাকি।
    সেখান থেকে জ্যোত্স্না কে ভালবাসা
    আমার দুঃসাহস।
    ফ্যালফ্যাল করে অন্ধকার থাকে শুধু এই স্তর এ,
    যেখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতেও
    চরম বেগ পেতে হয়।

    দূরে চিলের শব্দ পাক খেতে খেতে
    এই স্তরের কাছে আসার আগেই
    দপ করে মিলিয়ে যায়।

    মায়া কামনা আকাঙ্ক্ষা গুলো কেমন
    বাষ্পের মতন !
    ওরা বলেছিল ক্ষমতার কাছে চিরকাল
    দুর্বল মারা যায়,
    আর মায়াবীর কাছে কবিরা।

    যথাযথ,সঠিক কথা বোধ হয়।।



    © অঞ্জন ঘোষ রায়।

    একটি কবিতা অমৃতা কে উৎসর্গ করলাম, ওর জন্মদিনে ❤️






    মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

      আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...