শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

দুই বঙ্গ , আন্দোলন, রাষ্ট্র এবং মানুষের মৃত্যু


তুমি কে আমি কে
, রাজাকার রাজাকার 

কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার - 

আমি অঞ্জন ঘোষ রায়, স্যালুট জানাই তোমাদের , বাংলাদেশের সকল আন্দোলনকারী ছাত্র দের, তাদের পাশে থাকা পরিবার কে, মানুষ কে, যুব সমাজকে।নিজের অধিকার এর কথা বলতে গেলে তুমি রাষ্ট্রের কাছে দেশদ্রোহী ? এই রাজ্যে সারের দাম কেন বেরেছে জানতে চাওয়া তে কৃষককে পেতে হয়েছিল মাওবাদী তকমা। কিছু ভুলিনি আমরা,

 আমরা কারা? যারা নাগরিক, সাধারন মানুষ, যারা আমাদের মৌলিক অধিকারের জন্য কথা বলছি।

যেটুকু কথা বলব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলব এখানে, মানুষের পক্ষে মানুষের জন্যে বলব, এটা মাথায় রেখেই শুরু করলাম।  অনেকেই ভাবছেন এই রাজ্যের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ,যে বাংলা দেশে যা হচ্ছে ,হোক।এতে আমার কি! আমি তো দিব্যি আছি,অত মাথা ঘামানোর দরকার নেই,

সরি , কোথাও ভুল হচ্ছে...আপনি কোথাও যেন মৃতই। আপনি মানুষ তো? যদি উত্তর হ্যা হয়,এই আন্দোলন আপনার ও,এটা কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয় ,এটা কোনো সক্রিয় দলীয় রাজনীতির পক্ষ থেকে কর্মসূচি নয়। এই আন্দোলন এ আপনার ই দাবি ই তো আছে,সেটা পশ্চিমবঙ্গ হোক বাংলাদেশ হোক,এটা যেকোনো রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের অধিকারের দাবী।

মানুষের পাশে মানুষ সহযোদ্ধা হয়ে সহমর্মী হয়ে থাকবে না? মানুষ মানুষের জন্য,আবার মানুষ ই মানুষ কে হত্যা করে, শুধু কোটা আন্দোলন এর বিষয় নয়, বিষয় হল মেরুদণ্ড , সাহস, একতা, বিপ্লব বধ,নিজের অধিকার নিজের পাওনার কথা বলতে গিয়ে শাসক পুলিশ নামক কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নাগরিক নিধনে নেমেছে,আর লাশ এর পর লাশ কবর দেওয়া হচ্ছে, সেই লাশের উপর কি হাসিনা ঘোমটা টেনে নিদ্রা যাবেন ? ভাবুন এই স্বৈরাচার রাষ্ট্র যদি আপনার হয়! কি ভাবছেন আপনার রাষ্ট্র এমন নয়? ভেবে দেখুন,সম্ভাবনার দেওয়ালে কান পাতুন,এটা আরও ভয়ঙ্কর।

আপনি নিজেকে জাগান, বাংলাদেশের মানুষের দের এই আন্দোলনকারীদের দেখুন,ভাবুন,আমাদের রাজ্যের তুমুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন আন্দোলন সম্ভব কি? আন্দোলন ছাত্র থেকেই শুরু হয় প্রভাবশালী ভাবেই, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা মনে আছে? এরা মাথা নোয়াতে জানেনা, এরা সেই বয়সের কাছে ঘোরাফেরা করছে, এদের শক্তি রাষ্ট্র কে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম, ছাত্র আন্দোলন সবচেয়ে শক্তিশালী বেপরোয়া নির্ভিক আন্দোলন ।।।❤️

এত এত ছাত্রের মৃত্যু ,পুলিশের বেধড়ক গুলি করে ছাত্র হত্যা, রাজনৈতিক দলের অত্যাচার , আপনাকে যদি মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব না করে ,আপনি তখন ও যদি এদেশ ওদেশ বিচার করেন,আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন,আপনার পারিবারিক শিক্ষা ,আপনার অস্তিত্ব তে প্রশ্ন ওঠেই। নিজের যেটুকু সম্ভব সেটুকু আওয়াজ দিন,রাস্তায় নাম্লে নামুন,লিখতে পারলে লিখুন, গান গাইতে পারলে গান গেয়ে এই বিপ্লব এর পাশে থাকুন। আপনার দ্বারা বিপ্লব চেতনা অন্তত দুজনের কাছে হলেও সম্প্রচারিত হোক।জেগে উঠুন, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।। মানব ধর্ম সোচ্চার হোক,মানুষ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করুক,রাষ্ট্র ভয় পাক।। রাষ্ট্র মানুষের ঊর্ধ্বে নয়।।।।।

 

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শেখা উচিত, দেখা উছিত,শাসকের চোখে চোখ রেখে বুক ঠুকে লড়াই কাকে বলে,এই রাজ্যের শুধু নয়, যেকোনো শাসক যদি নাগরিকের মাথায় উঠে নাগরিকের চোখ মুখ বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করে, বমি করে দাও রাষ্ট্রের মুখে, আগুন জ্বালিয়ে দাও এমন শাসকের বালিশে, যাতে ঘুমোতে না পারে। দিনের পর দিন সমস্ত কিছুর মূল্যবৃদ্ধি ,বেকারত্ব, সরকারি স্কুল স্বাস্থকেন্দ্র হাসপাতাল গুলোর অবস্থান,মাথা থেকে পা অব্ধি আপনি যেখানেই তাকাবেন দেখবেন আপনি ডুবে যাচ্ছেন , রাষ্ট্র আপনাকে পুতুল বানিয়ে দিচ্ছে, আমি মনে করিয়ে দিতে চাই আপনি মানুষ, হুশ ফিরুক আপনার, প্রতিবাদ করুন, আর চুপ নয়।



অস্বস্তিকর একটা রাত ছিল কাল, আমি জানি এই রাজ্যের অনেকেই এই অস্বস্তি টের পেয়েছে।
গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ইহুদিকে হত্যা করার ঘটনা ঘটিয়ে ছিল হিটলার পোল্যান্ডের মাটিতে। সেই মানুষ গুলোর অসহায়তার খানিক অসহায়তা পাশের দেশের মানুষ গুলো পাচ্ছে, নেট বন্ধ করে দেওয়ার পর এখনো অব্ধি তাই, আজ ১৯ জুলাই,২০২৪ ,আমি ব্যক্তিগত ভাবে অত্যন্ত মর্মাহত এবং বিক্ষুব্ধ। যোগাযোগের কোনো মাধ্যম নেই, নেটওয়ার্ক বন্ধ,কোথায় কি হচ্ছে ,কিভাবে হচ্ছে,কে কাকে হত্যা করছে,কোনো কিছু প্রকাশিত হচ্ছে না, জানতে পারছে না পৃথিবী , যথেচ্ছ ভাবে নৃশংসতা চলতে পারে, একের পর এক আরও হত্যা করে আন্দোলন কে থামানোর চেষ্টা চলতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশী মানুষ তাদের পরিবারের সাথে বন্ধু পরিজনদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই অসহায়তা দুশ্চিন্তা ঘুম কেড়ে নিয়েছে প্রত্যেকের, এই তীব্র অশান্ত সময় এর জন্য দায়ী রাষ্ট্র । এত খারাপ সময় আর না আসুক , কিন্তু পৃথিবীতে এত খারাপ সময় বিক্ষিপ্ত ভাবে আসতেই থাকবে,মরতেই থাকবে মানুষ।।
কখনো নিজের দেশে কখনো পাশের দেশে কখনো দূরের দেশে।।
বাংলাদেশে
এই গণকবর এর উপর শুয়ে থাকবে
ঘোমটা টেনে রাষ্ট্রের বড় মাথা ...
তবে এভাবে বুলেট পুড়ে দেওয়া যায় নাগরিকের বুকে ন্যায়ের দাবীতে দুহাত তোলায়!

রাষ্ট্রের রক্তের রং কি পিচ এর মতই কালো?


@ অঞ্জন ঘোষ রায় / কলকাতা

 

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

অঞ্জন ঘোষ রায়ের কবিতা - "তোমার কোল "



কখনো নালিশ করিনি বলে 

অভিযোগের ওজন কমে গেছে? তা হয় না।

বোকা হদ্দ হয়ে যেতে হয় মাঝে মাঝে,

এটা মানানসই,

তুমি কার সাথে হেঁটে এলে,আমার অজানা নয়,

আমার আশ্রয় কেড়ে নিল কেন কেউ! 

হওয়ার ই ছিল।

বাসায় খড় কুটো বড় কম,আলো ঢোকে না,

যদিও চোখ বুজলে এখানে অন্ধকার এর অভাব ।


এত রোদ এর মধ্যে হেঁটে হেঁটে হাঁফিয়ে গেছি ,

কেউ বলছে না একটু জিরিয়ে নাও,একটু জল খাও,

আমার নালিশ নেই,অভিমান নেই,ক্ষোভ নেই

জমাট দুঃখ আছে,আমি তাদের জল দি রোজ,

আর অপেক্ষা করি ,

তুমি কবে ডাকবে?

একটু মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে,

"কেনো আমাকে ভালবেসে তুমি বোকা হয়ে গেলে"

আমি কোলে সিধিয়ে যাবো,কেঁদে নেবো 

যেভাবে বাঁধ ভেঙে গেলে গ্রামে জল ঢুকে 

ভাসিয়ে নিয়ে যায় সমস্ত কিছু।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।

বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাদা ট্যাক্সি - সহজ গদ্য | অঞ্জন ঘোষ রায়


 ওকে ভালবাসি,ওকে অন্য কেউ জড়িয়ে ধরে রেখেছে,অধিকার করে নিয়েছে ওর উপর, ও আমার বিবাহিত স্ত্রী নয়, ও আমার প্রেমিকার ঊর্ধ্বে কেউ,তার চেয়েও বেশি ,,বোঝাতে পারিনা কেনো?অন্য একজন এর আঙ্গুল ওকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

ট্যাক্সি চড়ে বসলাম , বাস এর ভিড় ভালো লাগছে না, ধাক্কা ধাক্কি করতে আজ আর ভালো লাগছে না।আমার দৈনন্দিন বাস,ট্রেনের ভিড় সবসময় ভালো লাগেনা,নেওয়া যায়না,আজকে একটু হিসেবের বাইরে টাকা না হয় বেশীই খসুক,কিন্তু বাস এ উঠতে মন চাইলনা,সাদা একটা ট্যাক্সি তে চড়ে বসলাম। ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছি,শিক্ষাগত যোগ্যতা যেটুকু আছে,শুধু তাই দিয়ে চাকরি হয়না,চাকরির যে খুব ইচ্ছে সেটাও তো আমার নেই,কিন্তু দরকার,বাঁচার জন্য ,পেটের জন্য দরকার।। যেসব কবিতা লিখে রেখে দিয়েছি, গান লিখে ফেলে রেখেছি,তাদের জন্য দরকার। মুখোশ পড়া মানুষ দের থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দরকার,আর্থিক ভাবে দুর্বল আরো হয়ে গেলে, খিল্লির পরিমাণ বেড়ে যাবে,এটা এই শতকের সত্য,সেটার বিরুদ্ধে একটু দাঁড়ানো দরকার।।মানুষ কে তার নিজের বিরুদ্ধে করতে হয় কত কিই না কাজ! তবু পকেট এর টানাটানি তে ও ট্যাক্সি চড়তে বসলাম,সাহস করে উঠলাম,ক্ষিদে পেয়েছে বড্ড।খাবো ক্ষণ, পরে,দেখা যাবে,ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে কেউ,ওর উরু তে হাত দিয়ে বলছে ,দারুন।ভাবনা সরিয়ে বললাম,নিয়ে চলো যেদিক খুশি,এদিক ওদিক ঘুরিয়ে যেতে থাকো শুধু।ভালো লাগছে না কিছু,কাউকে ভালোবাসলাম যতবার ততবার শুধু দীর্ঘশ্বাস নেমে এলো।তাকে ছুঁয়ে ফেলছে একটা লোক,যে অনেক টা সামাজিক ভাবে পোক্ত আমার তুলনায়,তুমি ভালোবাসলে না বলেই কি এত জমাট দুঃখ? কই? ভালো তো তুমিও বাসো! উপায় নেই বলো! দুঃখ জমলে বৃষ্টি আসে, ঝড় টা চাপা থাকে। ট্যাক্সি ড্রাইভার চালিয়ে দিল ঝাকানাকা একটা গান,সে কি করে বুঝবে আমার অসুখ! আমি ঝাঁপ দেবো জানলা দিয়ে?কিংবা রানিং ট্যাক্সি থেকে দরজা খুলে দুম করে নেমে যাব? গড়িয়ে গড়িয়ে উল্টে ছেঁচড়ে পড়ে যাবো রাস্তার মাঝ খানে,একটা বিশাল বাস এসে মাথার উপর দিয়ে চলে যাবে,মুখ চেনা যাবে না,আমার আসন্ন কবিতার বই এর সবকটা কপি বিক্রি হয়ে যাবে? তুমি তারপর আরো ভালোবাসবে? কাঁদবে কি? সে যা পারো করো,ট্যাক্সি ড্রাইভার এর ঝাকানাকা গান আমার মন কে দূষিত করে দিলো যেনো আরো।।কি করি এবার? বন্ধ করতে বলবো? কিভাবে সে বুঝবে আমি কিভাবে নিজের ভিতর খুন হচ্ছি নিজেই! রেহাই দাও আমায়,গুলি করে দাও আমায়,বলতে পারিনি। জানলা দিয়ে দেখতে থেকে গেছি বাস এর চাকা গুলো অনেক বেশি যেন বড়।।।


© অঞ্জন ঘোষ রায়।।

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

মায়ামানুষ _ অঞ্জন ঘোষ রায়

 

                      

      মায়া মানুষ

    কিছু মায়ামানুষের চোখ

    যাবতীয় জাগতিক বোধ অবশ করে দ্যায়।
    পৃথিবীতে এর আগে আজ অবধি যত গুলি
    চোখের কবিতা লেখা হয়েছে,সেসব কে
    বিশাল খাটো লাগে,
    বিপন্ন লাগে,বিমর্ষ লাগে।

    দৃষ্টি যতদূর যায় ,
    শাল গাছ টপকে,বন বাদার পেরিয়ে,
    ১১২ বছর এর বৃদ্ধ বট এর ছায়া এড়িয়ে,
    যে কোনো বিন্দুতে ,যদি তাকে মনে করা যায়!
    এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ তেজস্ক্রিয়তা ডানা ঝটফট করে
    হাজির হয়, ডাকাবুকো বর্ষার মেঘের মতন।

    তার সাথে অদৃশ্য ভাষায় কথা বলে
    পাওয়া যায়,শৈল্পিক নির্যাস।
    সূর্য ডুবে গেলে জঙ্গলে আগুন জ্বালায় কারা?
    তার চেয়েও বেশি আলো থাকে,
    বনেদী জ্যোৎস্নায়,
    তার করুণ কলমীলতা দৃষ্টিতে।।
    তবে,

    অনেক টা নিচুস্তর এ আমি থাকি।
    সেখান থেকে জ্যোত্স্না কে ভালবাসা
    আমার দুঃসাহস।
    ফ্যালফ্যাল করে অন্ধকার থাকে শুধু এই স্তর এ,
    যেখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতেও
    চরম বেগ পেতে হয়।

    দূরে চিলের শব্দ পাক খেতে খেতে
    এই স্তরের কাছে আসার আগেই
    দপ করে মিলিয়ে যায়।

    মায়া কামনা আকাঙ্ক্ষা গুলো কেমন
    বাষ্পের মতন !
    ওরা বলেছিল ক্ষমতার কাছে চিরকাল
    দুর্বল মারা যায়,
    আর মায়াবীর কাছে কবিরা।

    যথাযথ,সঠিক কথা বোধ হয়।।



    © অঞ্জন ঘোষ রায়।

    একটি কবিতা অমৃতা কে উৎসর্গ করলাম, ওর জন্মদিনে ❤️






    শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

    থাকা না থাকার মাঝে _ মুক্তগদ্য _ অঞ্জন ঘোষ রায় ২০২৩

    মুক্তগদ্য -  থাকা না থাকার মাঝে।






    এই আছি-এই নেই ,এর মধ্যিখানের দূরত্ব টা মাপার কোন পদ্ধতি জানার ইচ্ছা থাকলেও চেষ্টা করিনি কখনো, বিফল হবো জানি।

    কিছুদিন যাবৎ সমস্ত কিছু আলগা আলগা ভাব মাখানো অবস্থায় রয়েছে,

    এটা শীতকালের দোষ নাকি,নিজস্ব ভাঙন,জানিনা।

    শতাব্দী প্রাচীন কোনো তথ্য আমার জানা নেই,যা অনুসরণ করে আমি বেরিয়ে আসতে পারি।

    সময় পেরোতে পেরোতে অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেছে,বাবা মা এর বয়স বাড়তে থাকা,নিজের বয়স বাড়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভয়ংকর।

    একা থাকা কঠিন কোনো অংক নয়,যদিও এটা ধ্রুব সত্য কথা ও নয়।প্রতিটা মানুষ এর ভিতর মৃত্যুর ভয় কঠিন ভাবে জ্যান্ত কবর দেওয়া আছে,

    ভেবে চিন্তে দেখা যায়,আমরা কেউই ভালো নেই।

    কোথায় কোথায় হারিয়ে ফেলেছি কত কিছু হিসেব জানতে চাইলে আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়,চোখ বুজে আসে।

    হিসেব রক্ষক মাছ ধরবার জাল বুনতে বুনতে নদীতে নেমে গেছে,কিংবা সমুদ্রে।

    এত রং ,স্মৃতি,আনন্দ সব কিছু বৃথা মনে হয় হঠাৎ হঠাৎ,

    পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করলেও উপায় নেই,তবু সত্যি বলছি,আমি আর কবিতা গদ্য কিছুই লিখতে চাইছি না,গান গাইছি না,পালাতে চাইছি মাত্র,সমস্ত কিছু থেকে।

    কোনো প্রকাশক চাইবে না আমার কথা গুলো চাপানো হোক ছাপার অক্ষরে।

    শব্দ ভাঙতে ভাঙতে ঘুম ভেঙে যায়,আমার জিভ শুকিয়ে আসে।


    © Anjan Ghosh Roy

    শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

    কেউ প্রিয় নয় কারো - গদ্য

     সামান্য এই বয়সের উপলব্ধি থেকে যেটুকু বুঝি ,

    এখানে কেউ কারো কোনোদিন প্রিয় নয়।এখানে সমস্ত টা ক্ষমতার উপর নির্ভর শীল, ওনলি ক্ষমতা।এখানে দুর্বল আর সবলের সম্পর্ক আছে।তুমি শক্তিশালী ,তুমি এগিয়ে যাবে,তোমার ইচ্ছে মতন অনেক কিছুই ঘটবে,ক্ষমতা ছাড়া হলে তোমার প্রিয় বস্তু ,প্রিয় মানুষও অন্যের কব্জায় চলে যাবে,এমনকি নিজের মুহূর্ত ভাবনা ইত্যাদিও,এটাই নিয়ম কাকা।

    তোমার অনুভূতির আবেগের দিকে তাকিয়ে কোনো ব্যাটা বসে নেই,কেউ ভাববে না ,ভাবলেও কারো কিছু যাবে আসবে না তুমি কিভাবে বেঁচে আছ।তুমি ভালো আছো নাকি ভালো নেই!তাতে কার কি যায় আসে ।যে সবল সে ভালো থাকে,দুর্বল কে মাথা নোয়াতে হয়,মানিয়ে নিতে হয়,হেরে যেতে হয়,আমি এখানে বলতে আসিনি হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া যায়,সিনেমা অনেক হয়েছে,বাস্তব এ আসা হোক।আপনি কেমন জীবন কাটাবেন সেটা আপনার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে,আপনি কাকে ভালোবাসবেন সেটাও আপনার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে,আপনি কতটুকু ঘুমাবেন শান্তিতে সেটাও আপনার ক্ষমতা।নীতি নিয়ে লড়াই হয় না,জীবন নীতি আদর্শ নিয়ে চললেও,দুর্বল কে সরে যেতে হবে ,তোমার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নেবে তোমার চেয়ে মাংসপেশির অথবা সামাজিক শক্তি বেশি যার।সে তুমি মানুষ হও কিংবা জন্তু।।।।।তুমি জিতবেনা।।।।


    © Anjan Ghosh Roy

    ,2021

    বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

    কবিতা - উচ্ছেদ ২০২৩


     ইনকিউবাস, সঙ্গে শুয়ে আছে আদিম প্রেমিকা।

    এক ঘর লাল রতিক্রিয়া ছড়িয়ে আছে মেঝেতে

    কুড়িয়ে নি, চলো চম্পট দি ,

    দেশ কাল ছেড়ে যথারীতি।

    যাই হোক,অল্প আলো জ্বলুক!


    ঘুম তাড়ানি গানের প্রথম লাইন জানা আছে কারো?

    হোক! কানে শুনি বিসর্জনের মন্ত্র পাঠ।


    বালিশ দুটো লেপ্টে আছে ভীষন, 

    স্বাভাবিক বিভ্রান্তিতে মানুষ ভয় পায়না কখনোই।

    দুটো তরতাজা মানুষ চোখ বুজে মেখে মেখে গেলে,

    তাকে ইচ্ছেসঙ্গম নাও বলা যেতে পারে।


    প্যাথেটিক রং এর কোনো পতাকা নেই কোথাও?

    জোড়ালো শব্দের উৎপত্তি তোমার ভিতর,

    ওঠানামা ছায়া, ইনকিউবাস।


    অন্তর্বাসের ভিতর যে সবেদা গাছ থাকে,তাকে 

    ভালোবাসায় কেটে নিলে কেন?

    ভালোবাসা গেলে যাকিছু থাকে,তাকে

    ঘেন্নার ভয় নামে ডাকে,কিংবা তেতো উচ্ছেদ,


    এসো বৃক্ষরোপণ করি ,

    জমি দখলের ডাক, প্রেম নাম হোক।

    © অঞ্জন ঘোষ রায়।।।

    মাশরুম - অঞ্জন ঘোষ রায় এর কবিতা

      আশ্চর্য উন্মাদনা হয়ে যায় শান্ত ঝিল, মোহ মায়া মেশা কালো জলের ধূর্ত স্থিতিস্থাপকতা, অনর্গল সাঁতারে গোঁজামিল ঢেউ, বিরক্তির উৎপত্তি। যুদ্ধ কি ...